প্রথম চাকরি করলেই পকেটে ঢুকবে ১৫,০০০ টাকা! কেন্দ্রের এই মেগা স্কিমের কথা জানেন তো?

দেশের যুব সমাজকে কর্মমুখী করে তুলতে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এক আকর্ষণীয় উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সঠিক তথ্যের অভাবে সাধারণ মানুষ তার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তেমনই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু কমচর্চিত প্রকল্প হল ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’ (PM Viksit Bharat Rozgar Yojana)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমবার চাকরি শুরু করা দেশের যুবক-যুবতীরা সরকারের তরফ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক ইনসেনটিভ বা উৎসাহভাতা পেতে পারেন। শুধু কর্মচারীরাই নন, এই স্কিমের আওতায় বিশেষ আর্থিক সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে নিয়োগকারী সংস্থাগুলির জন্যও।
কারা পাবেন এই ১৫ হাজার টাকার ইনসেনটিভ?
সরকারের এই জনমুখী স্কিমে আবেদন করে যোগ্য প্রার্থীরা প্রথমবার চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুবাদে এক মাসের ইপিএফ (EPF) ভাতা হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন। এই পুরো টাকাটি দুটি নির্দিষ্ট ধাপে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের ঠিক ছয় মাস পর প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়। এরপর চাকরি জীবনের ১২ মাস বা এক বছর পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি বা আর্থিক সচেতনতা প্রোগ্রাম সম্পন্ন করার পর বাকি অর্থ অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
সুবিধা পাবেন নিয়োগকারী সংস্থাও
এই প্রকল্পের পরিধি কেবল কর্মচারীদের মধ্যেই সীমিত রাখা হয়নি। যে সমস্ত কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ করবে, তারাও আর্থিক ইনসেনটিভ পাবে। প্রতিটি নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য নিয়োগকারী সংস্থা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক ভাতা পেতে পারে। মূলত সংশ্লিষ্ট কর্মীর ইপিএফ অনুদানের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করেই এই ভাতা নির্ধারিত হয়। বিশেষ করে উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এই ইনসেনটিভ পাওয়ার মেয়াদ আরও কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে।
৯৯ হাজার কোটিরও বেশি বরাদ্দ এবং লক্ষ্যমাত্রা
দেশের কর্মসংস্থান বাজারে গতি আনতে এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯৯ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী দুই বছরের মধ্যে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১.৯২ কোটি কর্মী সরাসরি প্রথমবার চাকরিতে প্রবেশ করবেন। ২০২৫ সালের ১ অগস্ট থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই বিপুল কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কীভাবে মিলবে এই আর্থিক সহায়তা?
প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীরা আধার ব্রিজ পেমেন্ট সিস্টেমের (ABPS) মাধ্যমে সরাসরি বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতিতে নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পেয়ে যাবেন। অন্যদিকে, নিয়োগকারী সংস্থা বা এমপ্লয়ারদের ক্ষেত্রে প্রাপ্য ইনসেনটিভের অর্থ সরাসরি প্যান-লিংক করা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হবে।