সরকারি হাসপাতালেই মিলবে ৮০% পর্যন্ত সস্তায় জীবনদায়ী ওষুধ ও স্টেন্ট! বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় সাধারণ মানুষের আর্থিক বোঝা কমাতে আরও এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল সরকার। সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ কমাতে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ‘অমৃত ফার্মেসি’। এই বিশেষ ওষুধের দোকানগুলি থেকে নামমাত্র মূল্যে অর্থাৎ বাজারের তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিশাল ছাড়ে জীবনদায়ী ওষুধ এবং চিকিৎসার বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

কী এই ‘অমৃত ফার্মেসি’?

সহজ কথায়, এটি সরকারি হাসপাতালের চত্বরে অবস্থিত বিশেষ ডিসকাউন্টেড মেডিসিন শপ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আপাতত রাজ্যের ১০০টি সরকারি হাসপাতালে এই অমৃত ফার্মেসি চালু করা হচ্ছে। এই সমস্ত ফার্মেসি পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাজ্য সরকার। এর ফলে সাধারণ মানুষ তো বটেই, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা দারুণ উপকৃত হবেন।

কোন কোন সামগ্রীতে মিলবে বিরাট ছাড়?

চিকিৎসকদের একাংশের মতে, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ অনেকটাই কমে যাবে। অমৃত ফার্মেসির বিশেষত্বগুলি হলো:

  • জীবনদায়ী ওষুধ: ক্যান্সার, হৃদরোগ সহ একাধিক জটিল ও গুরুতর রোগের বহুমূল্য ওষুধ এখানে মিলবে জলের দরে।

  • স্টেন্ট ও লেন্স: হার্টের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেন্ট এবং চোখের ছানি অপারেশনের লেন্সগুলিতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাবে।

  • অন্যান্য সামগ্রী: চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অস্ত্রোপচার সামগ্রী ও ইমপ্লান্ট অত্যন্ত কম দামে উপলব্ধ হবে।

কীভাবে মিলবে এই পরিষেবা?

অমৃত ফার্মেসি থেকে ওষুধ বা চিকিৎসা সামগ্রী কিনতে গেলে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। চিকিৎসকের দেওয়া বৈধ বা ভ্যালিড প্রেসক্রিপশন সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, কিছু বিশেষ ওষুধের ক্ষেত্রে রোগী এবং তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের পরিচয়পত্র বা আইডেন্টিটি কার্ড সঙ্গে রাখতে হতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের ১০০টি সরকারি হাসপাতালে এই পরিষেবা চালুর কথা বলা হলেও, মূলত বড় বড় মেডিক্যাল কলেজ ও সুপার স্পেসালিটি হাসপাতালগুলিতে এই সুবিধা দ্রুত কার্যকর করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর পাশাপাশি সম্প্রতি সরকারি হাসপাতালে বেড না মিললে রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার ঐতিহাসিক প্রকল্পও চালু করেছে রাজ্য সরকার, যা স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *