জাতিগত শংসাপত্র যাচাইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার

পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সাল থেকে ইস্যু করা সমস্ত তপশিলি জাতি (SC), উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণি (OBC)-র শংসাপত্র যাচাইয়ের রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তির ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশে বিরাট স্বস্তি পেলেন রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৬৯ লক্ষ শংসাপত্র প্রাপক। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে আদালত।
চলতি বছরের ১৪ মে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল, ২০১১ সাল থেকে দেওয়া সমস্ত এসসি, এসটি এবং ওবিসি সার্টিফিকেট যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজনে ভুয়ো প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা হবে। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও রঘুনাথ চক্রবর্তী সওয়াল করেন যে, এই ধরনের শংসাপত্র বাতিল করার একচ্ছত্র বা আইনি ক্ষমতা রাজ্যের নেই।
মামলাকারীদের মূল যুক্তি ছিল, রাজ্য সরকারের এই একপেশে পদক্ষেপ ১৯৯৪ সালের তপশিলি জাতি ও উপজাতি চিহ্নিতকরণ আইনের পরিপন্থী। কোনও রকম সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়াই এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভারতের সংবিধানের ১৪, ১৫(৪), ১৬(৪) এবং ২১ নম্বর ধারার মৌলিক অধিকারের বিরোধী। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৬৯ লক্ষ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন, যাদের অনেকেরই নাম বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
এর আগে গত ৪ জুন রাজ্য সরকারের কাছে এই নির্দেশিকা পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হলেও তাতে কোনো সাড়া মেলেনি। ফলস্বরূপ, বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় মামলাকারীদের। অন্যদিকে, আদালতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং অন্যান্য পারিবারিক নথির ওপর ভিত্তি করে এই ধরনের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করার পূর্ণ অধিকার সরকারের রয়েছে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজ্য সরকার ঢালাওভাবে কোনো শংসাপত্র যাচাই করতে পারবে না। তবে নির্দিষ্ট কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে জেলার আধিকারিকরা আইন অনুযায়ী তা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আদালতের এই রায়ের ফলে আপাতত বড় ধরনের আইনি স্বস্তিতে রাজ্যের বিশাল সংখ্যক মানুষ।