আইপিএলের গণ্ডি পেরিয়ে এবার বড় ঝাঁকুনি! দেশের সব রাজ্যের টি-টোয়েন্টি লিগ বিসিসিআইয়ের কড়া নজরে!

ঘরোয়া ক্রিকেটে গড়াপেটা ও দুর্নীতির কালো ছায়া রুখতে বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। এতদিন মূলত আন্তর্জাতিক ম্যাচ, টেস্ট ক্রিকেট এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL)-এর মতো হাই-প্রোফাইল টুর্নামেন্টগুলিতে কড়া নজরদারি চালাত বোর্ডের দুর্নীতি দমন শাখা (ACSU)। তবে এবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আয়োজিত হওয়া সমস্ত টি-টোয়েন্টি লিগকেও নিজেদের পূর্ণাঙ্গ নজরদারির আওতায় নিয়ে এল ভারতীয় বোর্ড। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন দলীয় মালিক, টুর্নামেন্টের আয়োজক এবং ক্রিকেটারদের সঙ্গে সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বুকিদের যোগাযোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পরেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ড সূত্রে খবর, আইপিএল বা জাতীয় স্তরের সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির পাশাপাশি বর্তমানে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে জমজমাট টি-টোয়েন্টি লিগ অনুষ্ঠিত হয়। এই লিগগুলিতে অংশগ্রহণকারী বহু খেলোয়াড় মূলত ক্লাব স্তরের হয়ে থাকেন। এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাচ্ছে বুকিরা। দ্রুত প্রচুর অর্থ বা ‘কুইক মানি’-র লোভ দেখিয়ে কম অভিজ্ঞ বা তরুণ ক্রিকেটার, দলের মালিক ও ম্যানেজারদের সহজে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা চলছে, যা খেলার মৌলিক নিয়ম ও আচরণবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এবার থেকে প্রতিটি রাজ্যস্তরের টি-টোয়েন্টি লিগের ম্যাচগুলিতে ACSU-এর আধিকারিকরা কড়া নজরদারি চালাবেন। শুধুমাত্র খেলার মাঠ বা স্টেডিয়ামই নয়, বরং লিগ চলাকালীন টিম হোটেলের অন্দরেও ক্রিকেটার ও দলের কর্মকর্তারা কার কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, সেই গতিবিধির ওপরও তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে অপ্রীতিকর যোগাযোগের কোনো প্রমাণ মিললেই তা সঙ্গে সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এই শাখা। উল্লেখ্য, গত মরশুম থেকেই তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগ (TNPL)-সহ বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টের কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি ও দলের ভূমিকা দুর্নীতি দমন শাখার নজরে রয়েছে। শুধু একটি নির্দিষ্ট রাজ্যেই নয়, দেশের অন্যান্য প্রান্তের রাজ্য লিগগুলিতেও এই বুকি-মালিক-খেলোয়াড় চক্রের বিস্তার ঘটেছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বোর্ডের কর্তারা। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তদন্তে যদি কোনো ক্রিকেটার, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক কিংবা আয়োজক নিয়মভঙ্গ বা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হন, তবে ভারতীয় বোর্ডের তরফে তাঁদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।