BSE শেয়ারে বড় ধস! বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, কেন এক ধাক্কায় কমলো দাম?

দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ বিএসই (BSE)-তে শেয়ারের দরে বড়সড় পতন। সোমবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চাপের মুখে পড়ল এই এক্সচেঞ্জের শেয়ার। ১৮ আগস্ট দুপুর ১২:১০ নাগাদ বিএসই-র শেয়ার ১.৫ শতাংশ কমে ৩,২৮৩.১ টাকায় লেনদেন করতে দেখা যায়। বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামাকে ছাপিয়ে এই দরপতনের নেপথ্যে রয়েছে নুভামা এবং জেফারিসের মতো নামী বৈশ্বিক ব্রোকারেজ সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক নেতিবাচক প্রতিবেদন।

কেন রেটিং কমালো ব্রোকারেজ সংস্থাগুলি?
শেয়ারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পেছনে মূলত দুটি বড় ব্রোকারেজ সংস্থার রিপোর্টকে দায়ী করা হচ্ছে:

জেফারিস: সংস্থাটি বিএসই-র শেয়ারকে ‘আন্ডারপারফর্ম’ হিসেবে ডাউনগ্রেড করেছে এবং এর টার্গেট প্রাইস ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে।

নুভামা ইনস্টিটিউশনাল ইকুইটিজ: তারা স্টকটির রেটিং ‘বাই’ থেকে কমিয়ে ‘হোল্ড’-এ নামিয়ে এনেছে। একই সঙ্গে তাদের টার্গেট প্রাইস ২১ শতাংশ কমিয়ে ৩,২৪০ টাকায় নির্ধারণ করেছে।

ব্রোকারেজ সংস্থাটির মতে, এই পরিবর্তনের ফলে আগামী বছরগুলিতে এক্সচেঞ্জের আয়ে সরাসরি প্রভাব পড়বে। তাই ২০২৭ এবং ২০২৮ অর্থবর্ষের জন্য তাদের শেয়ার প্রতি আয় (EPS)-এর পূর্বাভাস যথাক্রমে ৬.৩% এবং ১৫% কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দরপতনের নেপথ্যে ৩টি প্রধান কারণ:
১. ক্লোজিং অকশন সেশনের অনিশ্চয়তা: নতুন চালু হওয়া ‘ক্লোজিং অকশন সেশন’ (CAS)-এর ফলে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মূল্য নিয়ে ট্রেডারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অপশন ট্রেডিংয়ে প্রিমিয়াম হ্রাসের ধারাটি অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা ট্রেডারদের উৎসাহ কমিয়ে দিচ্ছে। ফলস্বরূপ, জুলাইয়ের তুলনায় এক্সচেঞ্জটির মার্কেট শেয়ার ১৩০ বেসিস পয়েন্ট কমে ৩৬.৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

২. আরবিআই-এর কড়া বিধি: ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি সংক্রান্ত নিয়মাবলি কঠোর হওয়ায় মধ্যস্থতাকারীদের জন্য মূলধনের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেছে। এটি হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং কৌশলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা এক্সচেঞ্জের আয়ের অন্যতম উৎস।

৩. প্রোপাইটারি ট্রেডিংয়ে ধাক্কা: বিএসই-র মোট লেনদেনের প্রায় অর্ধেকই আসে দেশীয় প্রোপাইটারি ট্রেডারদের কাছ থেকে। এসটিটি (STT) বৃদ্ধি, আরবিআই-এর নতুন বিধিনিষেধ এবং ট্রেডিং সেশনের পরিবর্তন—এই ত্রিমুখী চাপের ফলে আগস্ট মাসে বিএসই-র অপশন ট্রেডিংয়ের গড় দৈনিক লেনদেন ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জটিল আর্থিক ও আইনি পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারলে আগামী কয়েক দিন বিএসই-র শেয়ারে আরও অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। বিনিয়োগকারীদের এখন এই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *