‘ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও নর্দমা থাকবে না!’ -কড়া বার্তা দিয়ে ঐতিহাসিক ঘোষণা মহাগুরুর!

দীর্ঘদিন ধরে চলা টলিপাড়ার অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও অচলাবস্থা কাটাতে এবার সরাসরি নির্বাচনের পথে হাঁটার বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। সোমবার নন্দনে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলী ও টেকনিশিয়ানদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই বৈঠকে টলিউডের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক জট কাটানোর বিষয়ে একাধিক কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, তথ্য-সংস্কৃতি সচিব ড. সৌমিত্র মোহন, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, জিৎ-সহ টলিপাড়ার বহু বিশিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলী। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে গিল্ড ও ফেডারেশনের নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর এবং ১ নভেম্বর যথাক্রমে গিল্ড ও ফেডারেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কড়া নজরদারি
বৈঠকে মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, গিল্ডের নির্বাচন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার পুনর্গঠনের কাজ এগোবে না। পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত সদস্যের জন্য বৈধ পরিচয়পত্র বা কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কার্ড ছাড়া কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে বলেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মহাগুরু বলেন, “যতদিন না নির্বাচন হয়, ততদিন চোখ খোলা থাকবে। ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও নর্দমা থাকবে না।”
পুরোনো জট ও বর্তমান পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, এর আগে ইম্পা (EIMPA)-র অন্দরেও সভাপতির পদত্যাগ এবং পাল্টাপাল্টি অশান্তি ঘিরে নানা জল্পনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। একইসঙ্গে ফেডারেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই অসন্তুষ্ট ছিলেন কলাকুশলীদের একাংশ। তবে নন্দনের এই বৈঠকের পর আগামী দিনে নির্বাচনের মাধ্যমে টলিউডের সমস্ত অভ্যন্তরীণ সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে এবং কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে বলেই আশাবাদী উপস্থিত সকলে।