শিশুদের যৌন নির্যাতন রোধে আরও কঠোর নীতি! মেটাকে কড়া বার্তা দিল কেন্দ্রীয় সরকার

শিশুদের যৌন নির্যাতন বা যৌন শোষণমূলক কনটেন্ট (CSAM) ফিল্টার করার ক্ষেত্রে নীতি আরও কঠোর করার পথে হাঁটছে সোশাল মিডিয়া জায়েন্ট মেটা (Meta)। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও সাময়িকভবে সরিয়ে দেওয়ার জেরে শুরু হওয়া তীব্র বিতর্কের আবহেই মেটার ওপর চাপ বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত নীতি লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে আর ‘সেফ হারবার’ বা আইনি সুরক্ষার সুবিধা দেওয়া হবে না।

কনটেন্ট মডারেশনে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

কেন্দ্রীয় সরকারের স্পষ্ট বার্তা, সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে কেবল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চললেই চলবে না, বরং ভারতের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথাও মাথায় রেখে কনটেন্ট মডারেশন টিমগুলিকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সরকারের সাফ কথা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করা বা কনটেন্ট সেন্সর করা তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি যাতে দেশের সামাজিক কাঠামোর কোনো ক্ষতি না করে, তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারনেম এবং এআই কনটেন্ট নিয়ে কড়া নজরদারি

শুধু কনটেন্ট ফিল্টারিংই নয়, মেটার বেশ কিছু নতুন ফিচার ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপও এখন সরকারের কড়া নজরে রয়েছে। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম ফিচার চালুর বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হলেও, সরকার জানিয়েছে যে শুধুমাত্র একটি সংস্থার ক্ষেত্রে নয়, বরং সমস্ত মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ওপরই সমানভাবে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এর মাধ্যমে তৈরি কনটেন্ট চেনার সুবিধার্থে সেগুলিতে বাধ্যতামূলক লেবেলিং বা ট্যাগিংয়ের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে সরকার। বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক দেশগুলি যখন সোশাল মিডিয়ার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, তখন ভারতের নিজস্ব সংবিধান ও সংস্কৃতির গণ্ডির মধ্যেই মেটা সহ সমস্ত সংস্থাকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *