মে মাসেই কি বাড়বে বেতন? অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটাল বড় আপডেট!

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের মধ্যে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অষ্টম বেতন কমিশন। কবে থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে এবং কবে থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। অনেকেরই ধারণা, কমিশন ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিলেই বুঝি সেই সময় থেকেই বর্ধিত বেতন পাওয়া শুরু হয়ে যাবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়।
২০২৭ সালের মে মাস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
নিয়ম অনুযায়ী, অষ্টম বেতন কমিশনকে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য মোট ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৭ সালের মে মাসে। তবে মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এর অর্থ এই নয় যে ওই মাস থেকেই আপনাদের বেতন বা পেনশন বৃদ্ধি পাবে। কমিশন পুরো সময় নিয়ে রিপোর্ট জমা দেবে, নাকি তার আগেই কাজ শেষ করবে, সেটা সম্পূর্ণ তাদের ওপর নির্ভর করছে।
রিপোর্ট জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কি বাড়ে বেতন?
অনেকেই মনে করেন যে কমিশন রিপোর্ট জমা দিলেই বুঝি পরের মাস থেকে বর্ধিত বেতন হাতে চলে আসবে। কিন্তু প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ। কমিশন কেবল তাদের সুপারিশগুলি রিপোর্ট আকারে সরকারের কাছে পেশ করবে। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার সেই রিপোর্ট নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনায় বসবে এবং তাতে উপযুক্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor) কত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারি পর্যালোচনা এবং চূড়ান্ত ঘোষণা সামনে আসতে সাধারণত রিপোর্ট জমা পড়ার পর আরও ৩ থেকে ৪ মাস সময় লেগে যায়।
কবে থেকে কার্যকর হবে অষ্টম বেতন কমিশন?
মূলত ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কমিশন এখনও সরকারের কাছে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি। ফলে চলতি বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের পুরনো সপ্তম বেতন কমিশনের ভিত্তিতেই বেতন পেতে হচ্ছে। সরকার এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বেতন কমিশন কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি।
বেতন কতটা বাড়তে পারে?
অষ্টম বেতন কমিশনের অধীনে বেতন বৃদ্ধি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ওপর। এর আগে সপ্তম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭ গুণ, যার জেরে সর্বনিম্ন বেসিক বেতন ৭,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮,০০০ টাকায় পৌঁছয়। এদিকে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন এবার ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়িয়ে ৩.৬৮ গুণ করার দাবি তুললেও, সরকারের অন্দরে তা প্রায় ২.৮৬ বা ৩.০০ গুণ ধার্য করার জল্পনা চলছে।
যদি শেষ পর্যন্ত ২.৮৬ গুণ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর করা হয়, তবে বর্তমান সর্বনিম্ন ১৮,০০০ টাকার বেসিক বেতন একলাফে বেড়ে প্রায় ৫১,৪৮০ টাকা হতে পারে। অর্থাৎ, পুরনো ও নতুন বেসিক বেতনের ফারাক দাঁড়াবে প্রায় ৩৩,৪৮০ টাকা। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত সিলমোহর পড়া বাকি রয়েছে।