পুরনো কাঠের আলমারি বা চেয়ার ফেলে দেওয়ার কথা ভাবছেন? এই ছোট ভুলেই হাতছাড়া হচ্ছে ঘরের আসল সৌন্দর্য!

ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা চটে যাওয়া রঙের পুরনো কাঠের আলমারি, হাতল ভাঙা চেয়ার কিংবা বহু বছরের ব্যবহারে আঁচড় পড়া টেবিল—এই ধরনের আসবাব দেখলেই হয়তো আমরা সেগুলোকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিই। নতুন আসবাবে ঘর সাজানোর ঝকঝকে আকর্ষণ সাময়িকভাবে চোখ টানলেও, পরিবারের দীর্ঘদিনের স্মৃতি ও আবেগ জড়িত থাকা সেই পুরনো আসবাবগুলোর আসল সৌন্দর্য কিন্তু অন্য জায়গায়। একটু বুদ্ধি করে যত্ন নিলেই পুরনো আসবাব দিয়ে ঘরকে দেওয়া সম্ভব এক দারুণ নান্দনিক লুক।
রং বদলালেই বদলে যায় চেহারা: পুরনো কাঠের আসবাব নতুন করে সাজানোর সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো রং বা পালিশ করা। কাঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে ভালভাবে ঘষেমেজে পালিশ করলে কাঠের দাগ ও নকশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবার আধুনিক অন্দরসজ্জার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাদা, ধূসর, অলিভ কিংবা প্যাস্টেল নীলের মতো স্নিগ্ধ শেড ব্যবহার করতে পারেন। বসার ঘরের জন্য শান্ত রঙের পাশাপাশি শিশুদের ঘরের ক্ষেত্রে কিছুটা উজ্জ্বল রং বেছে নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া চেয়ার বা সোফার কুশনের কাপড় বদলেও ঘরের কোণে নিয়ে আসা যায় এক নতুন সতেজতা।
একই আসবাবের ভিন্ন ব্যবহার: পুরনো আসবাবে নতুনত্ব আনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো তার ব্যবহার বা কার্যকারিতা বদলে ফেলা। যেমন—
-
অকেজো কাঠের সিঁড়ি দেওয়ালে বসিয়ে বানিয়ে ফেলা যায় বই বা ইনডোর প্লান্ট রাখার তাক।
-
পুরনো ড্রয়ার হতে পারে দারুণ ছোট স্টোরেজ বক্স।
-
অপ্রয়োজনীয় কাঠের দরজা পালিশ করে তৈরি করা যেতে পারে কফি টেবিলের উপরিভাগ।
-
পোশাক রাখার বড় আলমারি ব্যবহারযোগ্য না থাকলে তা বইয়ের তাক বা ক্রোকারিজ ক্যাবিনেট হিসেবে সাজানো যায়।
-
পুরনো ট্রাঙ্ককেও একটু মডিফাই করে বানিয়ে নিতে পারেন বসার ঘরের স্টোরেজ কাম বেঞ্চ।
কারিগরের হাতের ছোঁয়া ও যত্ন: আসবাব সংস্কারের আগে তার কাঠামো পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। কাঠে উইপোকা ধরেছে কি না, পচন ধরেছে কি না কিংবা জোড় আলগা হয়ে গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রয়োজনে দক্ষ কাঠমিস্ত্রির সাহায্য নিয়ে ভাঙা অংশ মেরামত বা কব্জা বদলে নিলে আসবাবের আয়ু আরও কয়েক বছর বেড়ে যায়।
খরচ কম, পরিবেশের উপকার: নতুন কাঠের আসবাব তৈরিতে অতিরিক্ত খরচ তো বটেই, প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদও নষ্ট হয়। সেদিক থেকে পুরনো আসবাবের পুনর্ব্যবহার পকেটবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ধারণাকেও জোরালো করে। তাই ঘরের কোণে পড়ে থাকা পুরনো আসবাবকে ডাস্টবিনে ফেলার আগে একটু যত্নের ছোঁয়া দিন। নতুনের চাকচিক্য সাময়িক হলেও, পুরনোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গল্প ঘরকে দেয় এক অন্যরকম উষ্ণতা।