দুর্গা পুজোর থেকেও বড় উৎসব! মনসা পুজো উপলক্ষে পুরুলিয়ার বাজারে হাঁস বিক্রির ধুম

কেউ দাম হাঁকাচ্ছেন ২৫০ টাকা, তো কেউ আবার ৫০০ টাকা পর্যন্ত! কিন্তু পকেট যতই ফাঁকা হোক না কেন, মনসা পুজো উপলক্ষে হাঁস কিনতেই হবে—এটাই পুরুলিয়া জেলার আপামরবাসীর অটুট নিয়ম। পৃথিবী ওলোটপালট হয়ে গেলেও সর্পদেবীর আরাধনায় হাঁস বলিদানের এই প্রাচীন প্রথায় এতটুকু ভাঁটা পড়েনি। আর সেই সুবাদেই মঙ্গলবার মনসা পুজোকে কেন্দ্র করে এখন জমজমাট পুরুলিয়ার হাঁসের বাজার।

দুর্গা পুজোর আমেজ পুরুলিয়ায়: পুরুলিয়া তথা রাঢ়বঙ্গে মনসা পুজো মানেই এক আলাদা উন্মাদনা, যা অনেক ক্ষেত্রেই দুর্গাপুজোর আমেজকেও ছাপিয়ে যায়। মাঠে, ঘাটে, জলে ও জঙ্গলে সাপের কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার কামনায় বহু প্রাচীনকাল থেকেই এই সর্পদেবীর আরাধনা করে আসছেন মানুষ। গ্রামের প্রতিটি মন্দির বা ঘরে ঘরে ঘট স্থাপন করে চলে দেবী পদ্মার পুজো। তবে পুরুলিয়ার মনসা পুজোর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এখানে লক্ষাধিক মানুষ দেবীকে নৈবেদ্য হিসেবে হাঁস অর্পণ করেন। পুজোর পরের দিন অর্থাৎ বুধবার তামাম জেলাবাসী হাঁসের মাংস ও ভাতে মেতে ওঠেন। যে কারণে ওই দিন পুরুলিয়ায় কার্যত অঘোষিত বনধের মতো পরিবেশ তৈরি হয়।

চড়া দামেও বিকোচ্ছে হাঁস: সোমবার পুরুলিয়ার বড়টাড় হাটে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর হাঁসের দাম কিছুটা চড়া। বিগত বছরগুলিতে যে হাঁস ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। হাটে আকার ও ওজন ভেদে ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৪৫০-৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে হাঁস।

ক্রেতাদের সাফ কথা, “বছরে তো মাত্র একবারই মায়ের পুজো। দাম যাই হোক না কেন, মনসা পুজোয় হাঁস চাই-ই চাই!” কেউ কেউ ছাগ বা পাঠা বলি দিলেও, সিংহভাগ মানুষের পছন্দ এই হাঁস বলিদান।

ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি: হাঁসের এমন লাগাতার চাহিদায় বেজায় খুশি বিক্রেতারাও। ব্যবসায়ী আনন্দ মাহাতো ও সাদ্দাম আনসারিরা জানান, এ বছর বাজারে হাঁসের চাহিদা বেশ ভালো। যদিও বৃষ্টির কারণে সোমবার কিছুটা সমস্যা হয়েছিল, তবুও পুজোর দিনগুলিতে ভালো বিক্রির আশা করছেন তাঁরা।

চাষের কাজ শেষ হওয়ার আনন্দ এবং ভক্তি-বিশ্বাসের মেলবন্ধনে পুরুলিয়ার এই মনসা পুজো ও হাঁস বলির ঐতিহ্য আজও সমানভাবে জীবন্ত। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করেই এখন জমজমাট রাঢ়বঙ্গের জনজীবন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *