আর মুখস্থ নয়! জাতীয় শিক্ষানীতির পথে বড় পদক্ষেপ, বদলাচ্ছে পড়ুয়াদের রিপোর্ট কার্ড

রাজ্যে খুব শীঘ্রই জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) কার্যকর হতে চলেছে—এই কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। সেই লক্ষ্যের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে এবার রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে ‘পরখ’ (PARAKH) প্রক্রিয়া। জাতীয় শিক্ষানীতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগেই পরীক্ষার পদ্ধতিতে এই বড় বদলের ইঙ্গিত মিলেছে। নতুন এই মূল্যায়ন পদ্ধতিকে রাজ্যের শিক্ষকদের কাছে পৌঁছে দিতে সোমবার থেকে বিদ্যাসাগর ভবনের অডিটোরিয়ামে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালা। উপস্থিত ছিলেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ।

কী এই ‘পরখ’ (PARAKH) প্রক্রিয়া?
এনসিইআরটি-র (NCERT) অধীনে ‘পরখ’ বা ‘Performance Assessment, Review, and Analysis of Knowledge for Holistic Development’ হলো এক আধুনিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো:

মুখস্থ বিদ্যার ইতি: বই মুখস্থ করে পরীক্ষা দেওয়ার চিরাচরিত প্রথা থেকে সরে এসে দক্ষতা-ভিত্তিক বা ‘স্কিল বেসড’ শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া।

রিপোর্ট কার্ডে বদল: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হবে নতুন ধরনের প্রোগ্রেস কার্ড বা রিপোর্ট কার্ড, যা কেবল নম্বর নয়, পড়ুয়ার সার্বিক দক্ষতা তুলে ধরবে।

স্কুল-ভিত্তিক সমীক্ষা: শিক্ষার্থীদের শেখার মান যাচাই করার জন্য রাজ্যজুড়ে বড় আকারে স্কুল-ভিত্তিক সমীক্ষা পরিচালনা করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা
কর্মশালায় যোগ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ জানান, শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন বা ‘হোলিস্টিক ডেভেলপমেন্ট’ নিশ্চিত করাই এই নতুন পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, “শিশুদের শেখার মানকে আরও উন্নত করতে রিপোর্টে কার্ডে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের বিচার করার জন্য বিভিন্ন প্যারামিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষকদের সেই নতুন প্যারামিটারগুলো সম্পর্কে সচেতন করাই এই কর্মশালার প্রথম ধাপ।”

শিক্ষা মহলের মতে, মুখস্থ বিদ্যার কারাগার থেকে বেরিয়ে ছাত্রছাত্রীরা যাতে প্রকৃত শিক্ষা এবং দক্ষতার দিকে এগিয়ে যেতে পারে, সেই লক্ষ্যেই ‘পরখ’ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে চলেছে। ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়াটিই রাজ্যের প্রতিটি বিদ্যালয়ে কার্যকর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *