১ থেকে দ্বাদশ! বদলাচ্ছে স্কুল পড়ুয়াদের সিলেবাস, মুখস্থ বিদ্যার দিন কি তবে শেষ?

রাজ্যের স্কুল পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের পদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে শিক্ষা দফতর। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সিলেবাস ও পাঠ্যবই নতুন করে পর্যালোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত পড়ুয়াদের ঘাড় থেকে অতিরিক্ত পড়ার চাপ কমানো, গতানুগতিক মুখস্থ বিদ্যার প্রবণতা দূর করে বিষয়ভিত্তিক ধারণা স্পষ্ট করা এবং বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তুলতেই এই পরিকল্পনা।

নতুন সিলেবাস তৈরিতে তৎপর কমিটি

আগামী শিক্ষাবর্ষের আগেই রাজ্যের স্কুলগুলির নতুন সিলেবাসের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে সিলেবাস কমিটি। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই এই সংক্রান্ত সমস্ত আলোচনা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে একটি তিন দিনের বিশেষ আবাসিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের পাঠ্যবই নিয়ে আলাদা করে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন বিশেষজ্ঞরা। বৈঠকে বিশিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা পর্ষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

জাতীয় শিক্ষানীতি এবং জাতীয় পাঠ্যক্রমের কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। নতুন পাঠ্যক্রমে কেবল মুখস্থ করার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কোনো বিষয় সম্পর্কে পড়ুয়ারা যাতে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে, সেই দিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পঠনপাঠনের মান উন্নত করে অভিভাবকদের পকেট ফাঁকা করা প্রাইভেট টিউশনের ওপর পড়ুয়াদের নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও বিশেষ সুপারিশ করা হতে পারে। এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। এই দলের আলোচনা ও কর্মশালার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আগামী দু’মাসের মধ্যেই একটি খসড়া রিপোর্ট তৈরি করা হবে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বই পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ

পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক রদবদলের পথে হাঁটছে না সিলেবাস কমিটি। কারণ, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার কথা মাথায় রেখে মুদ্রণের কাজ সময়মতো শেষ করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের ২ জানুয়ারির আগেই স্কুলগুলিতে নতুন বই পৌঁছে দিতে হবে। এর জন্য আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে ছাপার কাজের জন্য সম্পূর্ণ বই প্রস্তুত রাখা এবং আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নতুন বই প্রেসের উদ্দেশ্যে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ফলে অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে সিলেবাস সংশোধন থেকে শুরু করে বই তৈরির পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বড় চ্যালেঞ্জ এখন শিক্ষা দফতরের সামনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *