হরমুজ প্রণালী এবার আমেরিকার! ট্রাম্পের হুঙ্কার শুনতেই যুদ্ধের ময়দানে বড় মোড়

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে পরাজিত করে খুব শীঘ্রই এই কৌশলগত জলপথকে আমেরিকার অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। আর ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরেই পাল্টা হুঙ্কার ছেড়ে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো হুমকি বা শক্তিপ্রয়োগ করে এই প্রণালী দখল করা সম্ভব নয়।
ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি
নিউ ইয়র্কের একটি রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী সুরে জানান, চলমান সংঘাতে আমেরিকা শেষপর্যন্ত ইরানকে পরাস্ত করবে। এরপরই তাঁর ঘোষণা, ইরানকে পরাজিত করার পর হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বা তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ বাহিনীর মধ্যে প্রত্যক্ষ সংঘাত শুরু হয়। এই যুদ্ধের জেরে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস বাণিজ্য সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে চড়েছে জ্বালানির দাম।
ইরানের কড়া জবাব
আমেরিকার এই আগ্রাসী হুঙ্কারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের ডেপুটি ফরেন মিনিস্টার কাজেম ঘারিবাবাদি সোশ্যাল মিডিয়ায় ও সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কেবল মুখের কথা বা হুমকি দিয়ে হরমুজ প্রণালী দখল করা যায় না। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “হরমুজ প্রণালী কোনো টুইট, যুদ্ধজাহাজ, এয়ারক্রাফট কেরিয়ার বা নির্বাচনী বক্তৃতা দিয়ে দখল করা সম্ভব নয়। ইরান কোনো বিদেশি শক্তিকে একচিলতে জমিও ছাড়বে না।” সেই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ অতীতেও ইরানের ছিল, বর্তমানেও ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা ইরানেরই থাকবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই প্রাণকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে দুই দেশের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাতে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে।