‘বস্থায় ১২০ টাকা! দাম না পেয়ে মাথায় হাত চাষিদের, আলুর বাজারে বড় মোড়?’

বাজারে আলুর দাম চড়া থাকলেও ফসলের উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন রাজ্যের আলু চাষিরা। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বস্তাপ্রতি মাত্র ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দামে বিক্রি করতে হচ্ছে আলুর বন্ড। অথচ কলকাতার খোলাবাজারে সেই আলু প্রতি কেজি ১৪ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাভের পুরো অংশই চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও খুচরো বিক্রেতাদের পকেটে, যার ফলে ক্ষোভ বাড়ছে চাষিমহলে।

রাজ্যের কৃষকদের এই দুরবস্থা কাটাতে এবার বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলেছে। সম্প্রতি ‘মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (এমসিসিআই) আয়োজিত গ্রামোন্নয়ন বিষয়ক এক সম্মেলনে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, চাষিরা তাঁদের উদ্বৃত্ত ফসল বিক্রির জন্য যাতে রাজ্যের বাইরে সঠিক বাজার খুঁজে পান, সেই বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে সরকার। চাষিদের লজিস্টিকস বা পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো ইনসেনটিভ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

অতীতে অতিরিক্ত আলু উৎপাদনের জেরে হুগলি, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কৃষকরা বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা এবং উত্তরপ্রদেশের মতো ভিনরাজ্যে ফসল রফতানি করতেন। কিন্তু বিগত দিনে আলুর দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তৎকালীন রাজ্য সরকার ভিনরাজ্যে আলু রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর জেরে ভিনরাজ্যের বাজারে নিজেদের দখল হারিয়ে বিপাকে পড়েন বাংলার চাষিরা। বর্তমান সরকার এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ভাবায় চাষিদের মুখে কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলও স্পষ্ট জানান যে, চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেলে অদূর ভবিষ্যতে চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে আলু বাজারের এই অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর সকলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *