লালকেল্লা থেকে ১ কোটি যুবকের এআই ট্রেনিংয়ের ঘোষণা মোদীর, ২০৩৬ অলিম্পিক নিয়ে বড় টার্গেট!

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় দিনের মূল পর্ব। এবারের উদযাপনে এক নতুন ঐতিহ্য হিসেবে লালকেল্লার প্রাঙ্গণে প্রথমবার গাওয়া হয় ‘বন্দে মাতরম’। এরপর দীর্ঘ ভাষণে দেশের শিক্ষা, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, ক্রীড়া এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির নানা দিক তুলে ধরে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

যুবশক্তি ও শিক্ষার প্রসারে মেগা ঘোষণা

দেশের তরুণ প্রজন্মকেই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যুবসমাজকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন তিনি। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের এক কোটি যুবক-যুবতীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমাতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং পরিষেবা চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

ক্রীড়া জগৎ এবং অলিম্পিকের লক্ষ্য

খেলার জগতে ভারতকে বিশ্বমঞ্চে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে কেন্দ্র। ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমসের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দেশের ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভাকে খুঁজে বের করতে দেশজুড়ে বিশেষ প্রতিভা অন্বেষণ অভিযান বা ট্যালেন্ট হান্ট চালানোর ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ এবং পরিকাঠামো তৈরি করে তরুণ ক্রীড়াবিদদের তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

অর্থনীতি এবং উৎপাদনের নতুন মন্ত্র

দেশের শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে আরও মজবুত করতে বিশ্বমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থান শক্ত করতে উৎপাদন ক্ষেত্রে খরচ কমানো, গুণমান বজায় রাখা এবং বড় পরিসরে কাজ করার তিনটি মূল মন্ত্রের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ফরচুন ৫০০ কোম্পানির তালিকায় অন্তত ৫০টি ভারতীয় কোম্পানি স্থান পাওয়া উচিত বলে আশাপ্রকাশ করেছেন। সামুদ্রিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে ব্লু ইকোনমির বিকাশ এবং কনসার্ট ইকোনমির প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথাও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।

প্রযুক্তি এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা

প্রযুক্তির দিক থেকে ভারত কেবল একটি বাজার হয়ে থাকবে না, বরং উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মহাকাশ গবেষণা, রোবোটিক্স এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তায় পরমাণু শক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। দেশে হাইড্রোজেন ট্রেনের সফল চালচালের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পরিবেশবান্ধব শক্তির প্রসারের কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার বার্তা দিয়ে গোটা দেশকে একযোগে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *