‘তৃণমূলে থেকে কাজ করতে পারতাম না!’ দল ছেড়ে বিস্ফোরক মন্তব্য সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

রাজনীতিতে পা রাখার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে কৌতূহলের শেষ ছিল না। তবে এবার সরাসরি দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন হুগলির তৃণমূল সাংসদ তথা জনপ্রিয় অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে যদি ক্ষমতার পালাবদল না হতো, তবে তিনি কোন রাজনৈতিক শিবিরে থাকতেন—সে বিষয়েও এদিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। পাশাপাশি, তৃণমূলে থেকে কাজের ক্ষেত্রে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল বলেও অভিযোগ তুলেছেন এই সাংসদ।
শুক্রবার চুঁচুড়ায় বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগের ভারতমাতা পুজোয় যোগ দিতে যান রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলবদল এবং এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে রচনা স্পষ্ট জানান, তাঁর সাংসদ হিসাবে এখনও তিন বছরের মেয়াদ বাকি রয়েছে এবং তিনি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চান। তাঁর সংযোজন, তিনি দলীয় গণ্ডি বা রঙের রাজনীতি বোঝেন না, বরং উন্নয়নের স্বার্থেই কাজ করতে বদ্ধপরিকর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা স্বীকার করলেও কাজের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ ঢাকেননি তিনি। তাঁর দাবি, প্রথমের দিকে তিনি ঠিকমতো কাজ করতে পারছিলেন না। কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না অজুহাত দিয়ে তহবিলের অভাবের কথা বলা হতো। বালাগড়ের ভাঙন কিংবা রেল প্রকল্পের মতো বিভিন্ন কাজে তিনি বাধার মুখে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন।
তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁর অন্য একটি মন্তব্য। ঘুরিয়ে হলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তিনি জানান, ডবল ইঞ্জিন সরকার বা অন্য রাজনৈতিক বিকল্প না আসলে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব ছিল না। পরিস্থিতি এবং ফলাফল ভিন্ন হলে তিনি যে তৃণমূলেই থেকে যেতেন, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একসময়ের জনপ্রিয় এই সেলিব্রিটি সাংসদের এহেন মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। একদিকে যখন দলের অন্দরে নানা সমীকরণ বদলাচ্ছে, ঠিক তখনই একজন প্রথমসারির সাংসদের মুখে এই ধরনের বিস্ফোরক মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।