বড় বদল জনগণনায়! আধার থেকে কোভিডের টিকা, বাড়ি বাড়ি যাওয়ার আগেই জেনে নিন কী কী তথ্য চাইবে কেন্দ্র

আর মাত্র অপেক্ষা কয়েক মাসের, তার আগেই ২০২৭ সালের জনগণনার বড় প্রস্তুতি শুরু করে দিল কেন্দ্র। শুক্রবার দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জনসংখ্যা গণনা বা পপুলেশন এনুমারেশন পর্বের জন্য মোট ৪০টি নির্দিষ্ট প্রশ্নের একটি তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার জনগণনায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের জাতপাতের তথ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ করা হতে চলেছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। স্বাধীনতার পর প্রথমবার সব সম্প্রদায়ের জাত গণনাএবারের সেন্সাসের সবচেয়ে বড় এবং উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো— এতদিন পর্যন্ত ২০১১ সাল বা তার আগে পর্যন্ত মূলত শুধু তপশিলি জাতি (SC) এবং উপজাতিদের (ST) তথ্যই সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু ২০২৭ সালের এই জনসংখ্যা গণনায় প্রথা ভেঙে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের কাছ থেকে তাঁদের জাত বা কাস্টের বিবরণ সংগ্রহ করা হবে। উত্তরদাতার ঘোষণা অনুযায়ী এই কাস্ট বা জাতের তথ্য নথিভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কী কী থাকছে এই ৪০টি প্রশ্নের তালিকায়? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহের সময় আধিকারিকরা মূলত ৪০টি ভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশ্ন করবেন। সাধারণ ডেমোগ্রাফিক তথ্যের পাশাপাশি তালিকায় যুক্ত হয়েছে একাধিক নতুন ক্ষেত্র: ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য: নাম, পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, লিঙ্গ, জন্মতারিখ ও বয়স, বর্তমান বৈবাহিক অবস্থা, বিয়ের বয়স, স্বামী বা স্ত্রীর নাম এবং নিজ ঘোষণা অনুযায়ী জাতীয়তা ও ধর্ম। এছাড়া বাবা-মায়ের বিবরণও চাওয়া হচ্ছে। শিক্ষা ও ভাষা: মাতৃভাষা ও অন্যান্য পরিচিত ভাষা, সাক্ষরতার পাশাপাশি ডিজিটাল সাক্ষরতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা বা স্ট্রিম। কর্মসংস্থান ও মাইগ্রেশন: বিগত এক বছরে কোনো কাজ করেছেন কি না, অর্থনৈতিক কার্যকলাপের ধরন, পেশা, ব্যবসার প্রকৃতি এবং কাজ খুঁজছেন কি না সেই সংক্রান্ত তথ্য। পাশাপাশি জন্মস্থান, শেষ বসবাসের জায়গা, স্থানান্তরের কারণ এবং স্থায়ী ঠিকানা। পরিচয়পত্র ও অন্যান্য আধুনিক তথ্য: এই প্রথমবার জনগণনার তালিকায় যুক্ত হয়েছে কোভিডের টিকার স্থান, মোট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা, মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর, ভোটার আইডি, পাসপোর্ট নম্বর এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো তথ্যগুলি। তবে আধার, মোবাইল বা ভোটার কার্ডের মতো তথ্যগুলি স্বেচ্ছাধীন বা উপলব্ধতার ভিত্তিতে চাওয়া হয়েছে। দেশের প্রথম ডিজিটাল জনগণনাঐতিহ্যবাহী কাগজের ফর্মের পরিবর্তে সেন্সাস ২০২৭ হতে চলেছে ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল জনগণনা। ডিজিটাল মাধ্যম বা অ্যাপের সাহায্যেই মূলত সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এমনকি সাধারণ মানুষ চাইলে নিজেরাও অনলাইনে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন। কবে থেকে শুরু হচ্ছে প্রক্রিয়া? চলতি বছরের প্রথম পর্বের বাড়ি গণনার কাজ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ধাপে চলছে। অন্যদিকে বরফ ঢাকা এলাকা যেমন লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের কিছু অঞ্চলে শীতের কথা মাথায় রেখে খুব শীঘ্রই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাচ্ছে। দেশের বাকি অংশে মূল জনসংখ্যা গণনার কাজ হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। গোপনীয়তা নিয়ে কী জানাচ্ছে কেন্দ্র?সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে যে এত ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার পর তা কতটা সুরক্ষিত থাকবে। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, সেন্সাস আইনের ১৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী জনগণনায় সংগৃহীত প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও গোপন রাখা হবে। এই সংগৃহীত তথ্য কোনোভাবেই রাইট টু ইনফরমেশন বা RTI-এর আওতায় প্রকাশ করা হবে না এবং আইনি প্রমাণ বা সরকারি সুবিধার ক্ষেত্রেও তা ব্যবহার করা যাবে না।