চরকা বাদ দিয়ে হঠাৎ কেন পতাকায় এল অশোক চক্র? লুকিয়ে রয়েছে কোন বিরাট ইতিহাস?

ভারতের জাতীয় পতাকার দিকে তাকালে সবার চোখেই প্রথমে পড়ে সাদা অংশের ঠিক মাঝখানে থাকা গাঢ় নীল রঙের ‘অশোক চক্র’। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন কি, এই চক্রের আসল ইতিহাস কী এবং কেনই বা জাতীয় পতাকায় চরকার বদলে এটিকে স্থান দেওয়া হয়েছিল?
জাতীয় পতাকার ঠিক মাঝখানে থাকা এই অশোক চক্রটি নেওয়া হয়েছে সারনাথের বিখ্যাত অশোক সিংহস্তম্ভে থাকা ধর্মচক্রের নকশা থেকে। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই, দেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক কিছুদিন আগে সংবিধান সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই অশোক চক্রকে জাতীয় পতাকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য ও দেশের নিরন্তর প্রগতির বার্তা বহন করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
ভারতের ‘ফ্ল্যাগ কোড’ অনুসারে, জাতীয় পতাকার সাদা অংশের ঠিক মাঝখানে ২৪টি সমান দূরত্বের আরাসহ এই চক্রটির অবস্থান নির্ধারিত। ধর্মচক্রের এই গাঢ় নীল রং ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
২৪টি দণ্ডের গভীর তাৎপর্য
অশোক চক্রে থাকা ২৪টি দন্ড কেবল কোনো সাধারণ নকশা নয়, এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর তাৎপর্য। বিভিন্ন ব্যাখ্যায় এই ২৪টি দন্ডকে ধর্ম, সত্য, ন্যায় ও নৈতিকতার মতো জীবনের বহুমুখী গুণের সঙ্গে তুলনা করা হয়। পাশাপাশি, এগুলো দিনের ২৪ ঘণ্টার সঙ্গেও যুক্ত, যা জীবনের নিরন্তর গতি ও অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। চাকার মূল ধর্মই হলো অবিরাম ঘোরা, আর এই ঘূর্ণন নির্দেশ করে যে গতিই হলো জীবন, আর থেমে থাকা মানেই পতন। এই চক্র দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্থবিরতা কাটিয়ে প্রতিনিয়ত দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
চরকা থেকে অশোক চক্রের রূপান্তর
জাতীয় পতাকার প্রাথমিক নকশায় কেন্দ্রে মহাত্মা গান্ধীর সুতো কাটার চরকা ছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনকালে সেই চরকা ছিল আত্মনির্ভরতার প্রতীক। তবে পরবর্তী সময়ে ১৯৪৭ সালে দেশের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চরকার বদলে এই ঐতিহাসিক অশোক চক্রকে বেছে নেওয়া হয়। শুধু তেরঙ্গার মাঝখানেই নয়, ভারতের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বীরত্বের সম্মাননার নামও রাখা হয়েছে ‘অশোক চক্র’, যা আমাদের জাতীয় প্রতীকেও এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।