মোহনবাগানকে হারিয়েছিল, এবার ইস্টবেঙ্গলের সামনেও আটকে গেল ভবানীপুর! ড্রয়ের পর লিগ টেবিলের যা হাল

গত ম্যাচে বিএসএস স্পোর্টিং ক্লাবের বিরুদ্ধে চলতি কলকাতা লিগে প্রথম হোঁচট খেতে হয়েছিল দলটিকে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পিছিয়ে পড়ে পয়েন্ট জোগাড় করে প্রশংসিত হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের লড়াকু ফুটবল। যদিও গ্রুপ-এ-তে শীর্ষস্থান হাতছাড়া হয়েছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। শুক্রবার ষষ্ঠ ম্যাচে ফের ড্র করে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারের সেই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করল অর্চিষ্মান বিশ্বাসের ছেলেরা।

শুক্রবার ইস্টবেঙ্গল মাঠে শক্তিশালী ভবানীপুর ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছিল লাল-হলুদ। যে ভবানীপুর দিনকয়েক আগেই দুই এক গোলে হারিয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে। এদিনও শীর্ষস্থান দখলের সেই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে ভবানীপুরের বিরুদ্ধে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে শেষ পর্যন্ত গতবারের চ্যাম্পিয়নদের স্বস্তির এক পয়েন্ট এনে দিলেন অনন্থু।

এদিন ইস্টবেঙ্গল মাঠে ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। ৩৪ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন গোলরক্ষক আদিত্য পাত্রের একটি দুরন্ত সেভ ভবানীপুরের দুর্গ অক্ষত রাখে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বিপাকে পড়ে লাল-হলুদ। দূরপাল্লার এক লবে ইস্টবেঙ্গলকে পিছিয়ে দেন ক্লাবেরই আর এক প্রাক্তনী শ্যামল বেসরা। সেই গোলের পর জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, মোহনবাগানের পর বুঝি ইস্টবেঙ্গলকেও ধরাশায়ী করতে চলেছে রঞ্জন চৌধুরীর দল।

তবে সেই শঙ্কা উড়িয়ে ৫২ মিনিটে দুর্দান্ত গোলে ইস্টবেঙ্গলকে সমতায় ফেরান অনন্থু। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর বাঁ-পায়ের ভলি ছিল চোখ জুড়ানো। বাকি সময়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই ছিল লাল-হলুদের পায়ে। ভবানীপুর রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ আছড়ে পড়তে থাকে। ফলস্বরূপ দ্বিতীয় গোলের মুখ প্রায় খুলেই ফেলেছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ৭২ মিনিটে অনন্থুর আরেকটি জোরালো প্রয়াস ক্রসবারে প্রতিহত হওয়ায় জয় হাতছাড়া হয়।

ইস্টবেঙ্গল মাঠে শীর্ষে ওঠার এই লড়াইয়ে এদিন চরম উত্তেজনা ছড়ায় দুই ডাগ-আউটেও। ভবানীপুরের ফিজিও কুণাল ঘোষ ক্রমাগত কটূক্তি করার কারণে লাল কার্ড দেখেন। পাশাপাশি মেজাজ হারিয়ে হলুদ কার্ড দেখতে হয় দুই দলের কোচকেই। ম্যাচ শেষে ভবানীপুর কোচ রঞ্জন চৌধুরী রেফারিং এবং সূচি নিয়ে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দুই প্রধানের বিরুদ্ধে পরপর ম্যাচ খেলার সূচি নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। পক্ষান্তরে ইস্টবেঙ্গল কোচ অর্চিষ্মান বিশ্বাস দলের লড়াইয়ের প্রশংসা করলেও রেফারিং নিয়ে তিনিও সরব হন। ম্যাচের মাঝে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ইস্টবেঙ্গলের আকাশ হেমব্রম।

শুক্রবার এই ম্যাচের পর সাত ম্যাচ থেকে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-এ-র তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভবানীপুর। অন্যদিকে এক ম্যাচ কম খেলে ছয় ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টবেঙ্গল রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে ওঠার এই লড়াই দেখতে এদিন ইস্টবেঙ্গল মাঠে প্রায় তিন হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তবে দুটি দর্শনীয় গোল ছাড়া দুই দলের লড়াই ড্রয়ে শেষ হওয়ায় শীর্ষস্থান অধরাই থেকে গেল লাল-হলুদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *