নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য! তড়িঘড়ি বিজেপির অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ কেড়ে নিল রাজ্য

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে অবশেষে চরম পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বিজেপি সাংসদ নগেন্দ্র রায়, যিনি রাজনীতির ময়দানে ‘অনন্ত মহারাজ’ নামেই সমধিক পরিচিত, তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার ও বাতিল করে দেওয়া হলো। বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের পক্ষ থেকে এই মর্মে একটি প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি জারির সঙ্গে সঙ্গেই এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজবংশী সামাজিক ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনন্ত মহারাজকে রাজ্যের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’-এ ভূষিত করা হয়েছিল। তবে মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসের ব্যবধানে কেন এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো প্রশাসন?
কী বলা হয়েছে সরকারি নির্দেশিকায়?
রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের জারি করা ওই নির্দেশে জানানো হয়েছে, সম্মান প্রদানের পর এমন কিছু নতুন ঘটনা ও তথ্য সরকারের গোচরে এসেছে যা অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে সমস্ত নথি ও দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে রাজ্য সরকার। সমস্ত পর্যালোচনার পর স্পষ্ট বলা হয়েছে, শ্রী নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের ক্ষেত্রে এই সম্মানের মর্যাদা ও উদ্দেশ্য বজায় রাখা আর একেবারেই সমীচীন বা সঙ্গত নয়। তাই অবিলম্বে তাঁর এই সম্মান বাতিল করা হলো। সরকারি নির্দেশের ফলে তিনি আর নিজেকে বঙ্গবিভূষণ প্রাপক হিসেবে দাবি করতে পারবেন না এবং সরকারি খাত থেকেও তাঁর নাম বাদ দেওয়া হবে।
প্রতিবাদের তীব্র ঝড় ও রাজনৈতিক শোরগোল:
সম্প্রতি প্রকাশ্যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে কুরুচিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে উত্তরবঙ্গের এই পদ্ম-সাংসদের বিরুদ্ধে। এর পর থেকেই গোটা বাংলাজুড়ে তীব্র অসন্তোষ, নিন্দা ও প্রতিবাদের প্রবল ঝড় ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেস সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন তাঁর বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে সোচ্চার হয়। খোদ মুখ্যমন্ত্রীও নেতাজি অবমাননায় কড়া পদক্ষেপ ও গ্রেফতারির বার্তা দিয়েছিলেন। এই আবহে রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহারের নির্দেশিকা জারি করায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।