আমেরিকায় টিকাকরণ নিয়ে ট্রাম্পের বড় সিদ্ধান্ত! MMR ভ্যাকসিন নিয়ে শুরু বিতর্ক

আমেরিকায় শিশুদের টিকাকরণ কর্মসূচিতে এক বড় ও বিতর্কিত পদক্ষেপ নিলেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের সাথে যৌথভাবে এক এক্সিকিউটিভ অর্ডারে সই করেছেন ট্রাম্প। এই নির্দেশে শিশুদের MMR (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) ভ্যাকসিনকে একটি ডোজে দেওয়ার পরিবর্তে তিনটি আলাদা সিঙ্গল ডোজে ভাগ করে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ ঘিরে আমেরিকার চিকিৎসকমহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

MMR ভ্যাকসিন কী? সহজ কথায়, MMR হলো একটি কম্বিনেশন ভ্যাকসিন, যা হাম (Measles), মাম্পস (Mumps) এবং রুবেলা (Rubella)—এই তিনটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাল রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে এই তিনটি রোগের টিকা একটি ইনজেকশনের মাধ্যমেই দেওয়া হয়, যাতে শিশুকে বারবার কষ্ট পেতে না হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের নয়া নির্দেশিকায় কী আছে? ১০ আগস্ট হোয়াইট হাউসে স্বাক্ষরিত এই এক্সিকিউটিভ অর্ডারে বেশ কিছু বড় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে:

  • শিশুদের নিয়মিত টিকার সংখ্যা ১৭টি থেকে কমিয়ে ১১টিতে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

  • এক বছর বয়সের শিশুদের সমস্ত টিকা এক দিনে না দিয়ে আলাদা আলাদা ভিজিটে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি হলো MMR ভ্যাকসিনকে আলাদা করে দেওয়া, যাতে শিশুরা একাধিকবার ইনজেকশন পায়।

সমস্যার জায়গা কোথায়? সবচেয়ে বড় চমকপ্রদ তথ্য হলো, ট্রাম্প যে আলাদা আলাদা টিকার সুপারিশ করছেন, বর্তমানে আমেরিকার বাজারে তার কোনো অস্তিত্বই নেই। আমেরিকার পেডিয়াট্রিক ক্লিনিকগুলোতে আলাদাভাবে হাম, মাম্পস বা রুবেলার একক টিকা পাওয়ার কোনো উপায় নেই। আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সের মতে, আলাদা টিকা তৈরি করতে প্রায় এক দশক সময় লেগে যেতে পারে, ফলে এই সিদ্ধান্ত আপাতত কার্যত অবাস্তব।

চিকিৎসকদের বিরোধিতার কারণ কী? এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন খোদ রিপাবলিকান সিিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, টিকা আলাদাভাবে দিলে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি: ১. টিকা নেওয়ার ভিজিট বাড়লে শিশুদের ডোজ মিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। ২. সংক্রমণের সম্ভাবনা উল্টে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ৩. চিকিৎসার খরচ বাড়বে এবং অভিভাবকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে। ৪. টিকার সাথে অটিজমের কোনো সম্পর্ক নেই বলে বিজ্ঞান আগেই প্রমাণ করেছে, অথচ এই বিভ্রান্তি ফের নতুন করে ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই নজিরবিহীন নির্দেশিকায় এখন আমেরিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক বড়সড় বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *