ওআরএস ও চাদর কেনায় কোটি কোটি টাকার নয়ছয়? খাস দিল্লিতে ফাস হলো অবিশ্বাস্য কেলেঙ্কারি!

দিল্লির স্বাস্থ্য বিভাগে ৬৫০ কোটি টাকার কথিত দুর্নীতির ঘটনায় মন্ত্রী বনাম সচিবের সংঘাত চরমে উঠল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ পঙ্কজ কুমার সিং এবং স্বাস্থ্য সচিব রূপেশ ঠাকুরের মধ্যে চলা এই টানাপোড়েনের জেরে এবার সরাসরি ১৭ আগস্টের মধ্যে বিস্তারিত ও সংশোধিত জবাব তলব করা হয়েছে। ওআরএস স্যাশে, হাসপাতালের বিছানার চাদর এবং পোর্টেবল ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন ব্যুরো (ACB) এফআইআর দায়ের করার পরই এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে।

সচিবের জবাব খারিজ মন্ত্রীর: এর আগে ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে সচিব যে জবাব দিয়েছিলেন, তাকে সম্পূর্ণ অসন্তোষজনক বলে খারিজ করে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মন্ত্রীর দাবি, তিনি ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সাতবার তথ্য চেয়েছেন, কিন্তু সন্তোষজনক নথি মেলেনি। মন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, প্রাসঙ্গিক নথি তদন্তকারী সংস্থার কাছে রয়েছে—এই অজুহাতে তথ্য আটকে রাখা চলবে না। ক্রয়ের সঠিক দর, জিএসটি, প্রকৃত খরচ, পরিমাণ এবং তুলনামূলক হিসাব সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো নথি আইনি কারণে না পাওয়া যায়, তবে তার লিখিত কারণ দর্শাতে হবে।

দরের ফারাক নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন: এই দুর্নীতির অভিযোগ ও প্রকৃত তথ্যের মধ্যে বিরাট ফারাক রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

  • ওআরএস স্যাশে: অভিযোগে যেখানে প্রতিটি ওআরএস স্যাশের দাম ১৫ টাকা বলা হয়েছে, সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগ সেগুলি ৮.৭০ টাকায় কিনেছে।

  • বিছানার চাদর: অভিযোগে ১২০ টাকার চাদর ৫০০ টাকায় কেনার কথা বলা হলেও, সরকার সেগুলি ৩৯০ টাকায় কিনেছে। এমনকি এইমস (AIIMS)-এও একই মানের চাদর প্রায় ৪০০ টাকায় কেনা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

  • ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন: ১১ লক্ষ টাকার মেশিন ৩৩ লক্ষ টাকায় কেনার অভিযোগ উঠলেও, মন্ত্রীর পাল্টা দাবি—কেন্দ্রীয় সরকারের GeM পোর্টাল সহ উত্তর প্রদেশ ও ছত্তিশগড় সরকারও একই দামে এই স্পেসিফিকেশনের মেশিন কিনেছে।

সব মিলিয়ে, সিপিএ-র অধীনে মোট ক্রয়ের অঙ্ক প্রায় ৬৭০ কোটি টাকা হলেও কীভাবে ৬৫০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির দাবি করা হচ্ছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রী। তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত না হলে খোদ স্বাস্থ্য সচিবের বিরুদ্ধেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *