“আরএসএসের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সবার আগে আমি দাঁড়াব!” হঠাৎ কেন এমন কথা বললেন রাহুল গান্ধী?

 

“যেদিন আরএসএসের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হবে, সেদিন তাদের রক্ষার্থে সবার আগে আমি দাঁড়াব।” বৃহস্পতিবার ‘রचनात्मक কংগ্রেসের জাতীয় অধিবেশন’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঠিক এই ভাষাতেই সংঘকে এক হাত নেওয়ার পাশাপাশি এক অভিনব মন্তব্য করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এদিন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার এবং অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি নোটবন্দি, ভুল জিজটি এবং লাদাখে চিনা আগ্রাসন নিয়েও সুর চড়ান কংগ্রেস সাংসদ।

অধিবেশনে রাহুল স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারতে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক— সে হিন্দু, মুসলিম, শিখ বা জৈন যেই হোন না কেন, সকলেরই নিজের মনের কথা স্পষ্টভাবে বলার অধিকার রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান শাসকদল দেশের এই মৌলিক ভাবাবেগ বা ‘এক্সপ্রেশন’কেই গলা টিপে মারতে চাইছে। তবে তা সত্ত্বেও সবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখার পক্ষেই সওয়াল করেন তিনি।

ছোট ব্যবসায়ীদের ধ্বংস করেছে নোটবন্দি ও জিএসটি

কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে রাহুল বলেন, একসময়ে দেশের ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাই ছিল অর্থনীতির মূল শক্তি। কিন্তু নোটবন্দি এবং ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি (GST) চালুর মাধ্যমে সরকার সেই ছোট ব্যবসাগুলিকে ধূলিস্যাৎ করে দিয়েছে। তাঁর দাবি, প্রমোদ মহাজনের হাত ধরে শুরু হওয়া এই কর্পোরেটপ্রীতি আজ নরেন্দ্র মোদীর আমলেও একইভাবে বজায় রয়েছে।

চীন নীতি ও গলওয়ান ইস্যু নিয়ে তোপ

ভারত-চীন সীমান্ত প্রসঙ্গ টেনে এনে তীব্র আক্রমণ শানান রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, চীন ভারতের সীমান্ত পার হয়ে দেশের ভেতরে পেট্রোলিংয়ে বাধা দিয়েছে, অথচ সেই সত্যিটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র। গলওয়ান সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সেনা যখন জমি দখলের কথা বলছে, তখন প্রধানমন্ত্রী বলছেন এক ইঞ্চি জমিও হাতছাড়া হয়নি! এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।”

মোদীর ঘুম ও অমিত শাহকে নিয়ে কটাক্ষ

কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে রাহুল আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য এখন নিজেদের রাজনৈতিক পরিকাঠামো টিকিয়ে রাখা এবং নির্দিষ্ট কিছু শিল্পপতির স্বার্থ দেখা। মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “আজকাল নরেন্দ্র মোদীর রাতে ঘুম হয় না। আর যাঁদেরকে (অমিত শাহ) চাণক্য বা সর্দার প্যাটেল বলা হয়, তাঁরাও এখন অন্তরালে চলে গেছেন, ২০ দিন ধরে সংসদে আসেননি।” পরিশেষে রাহুলের হুঁশিয়ারি, দেশের মানুষ আর চুপ করে থাকবে না এবং সরকারের সমস্ত অন্যায়ের জবাব রাজনৈতিকভাবেই দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *