এবার সোজা কোম্পানির মালিক যাবে জেলে! বিহারের মদ নিষিদ্ধকরণ নিয়ে নীতীশ সরকারের মেগা মাস্টারস্ট্রোক

বিহারে পূর্ণ মদ নিষিদ্ধকরণ বা শরাববন্দি আইন তুলে নেওয়ার সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। এক দশক পেরিয়ে গেলেও রাজ্যজুড়ে এই আইন নিয়ে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত রয়েছে। এরই মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্যে মদ নিষিদ্ধকরণ নীতি আগের মতোই কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে এবং ভবিষ্যতে তা তুলে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে এবার আইনের পরিধি আরও বাড়িয়ে সরাসরি প্রস্তুতকারক কোম্পানি ও ব্র্যান্ডগুলিকে কাঠগড়ায় তোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
বিহারের মদমুক্ত ও আবগারি মন্ত্রী মদন সাহনি সম্প্রতি এই বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এতদিন পর্যন্ত অবৈধ মদের চালান ধরা পড়লে শুধু বাহন চালক, বাহন বা ছোটখাটো পাচারকারীদের ওপর আইনি পদক্ষেপ করা হতো। কিন্তু এবার থেকে যে সমস্ত নামী বা বেনামী কোম্পানির মদ বিহারের সীমানায় বাজেয়াপ্ত করা হবে, সেই সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এবং প্রস্তুতকারক সংস্থাকেও আইনি নোটিশ দিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। প্রয়োজনে কোম্পানি মালিকদেরও বিহারে ডেকে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে।
সাপ্লাই চেইনের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রস্তুতি
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী রাজ্য যেমন পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং হরিয়ানা থেকে বিভিন্ন উপায়ে বিহারে মদ পাচার করা হচ্ছে। এছাড়া ভিন রাজ্য থেকে শুধু তৈরি মদ নয়, বরং কাঁচা স্পিরিট আনিয়ে স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কে নকল বা অবৈধ মদ তৈরির চক্রও সক্রিয় রয়েছে। পূর্ণিয়ার ডালকোলা চেকপোস্টে स्कैनर অপারেটরের মদতে চলা বড়সড় পাচার চক্রের হদিশ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
সরকারের এই নতুন রণকৌশলের মূল লক্ষ্য হলো শুধু রাস্তা থেকে ছোট পাচারকারী ধরা নয়, বরং অবৈধ মদের পুরো সাপ্লাই চেইন এবং নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা। এনডিএর অন্দরে মাঝে মাঝে মদ নীতি পর্যালোচনার কথা উঠলেও, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের এই ঐতিহাসিক নীতি থেকে যে সরকার এক চুলও সরছে না, মন্ত্রীর এই সাম্প্রতিক বার্তার পর তা একেবারে স্পষ্ট হয়ে গেছে।