ছড়িয়ে রয়েছে মূত্র ভর্তি বোতল-নোংরা পোশাক, কানওয়ার যাত্রা শেষ হতেই ভয়ঙ্কর রূপ!

শ্রাবণ মাস জুড়ে শিবের মাথায় জল ঢালতে দেবভূমিতে নেমেছিল পুণ্যার্থীদের ঢল। কানওয়ার যাত্রা উপলক্ষে এবার নজিরবিহীনভাবে প্রায় ৪.৮ কোটি পুণ্যার্থী ভিড় করেছিলেন উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে। গত বছরের ৪.৫ কোটির রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গিয়েছে এবারের এই বিপুল জনসমাগম। কিন্তু যাত্রা শেষ হতেই হরিদ্বারের প্রতিটি রাস্তা, ঘাট, পার্কিং এলাকা এবং শৌচাগারের যে করুণ ছবি সামনে এসেছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। পবিত্র এই তীর্থস্থান এখন কার্যত বর্জ্যের স্তূপে পরিণত হয়েছে।

বর্জ্যের পাহাড় ও হরিদ্বারের ভয়াবহ অবস্থা

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কানওয়ার যাত্রার পর হরিদ্বার থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ৭ হাজার টন আবর্জনা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শহরের অন্যতম পবিত্র স্থান ‘হর কি পৌড়ি’-র অবস্থাও তথৈবচ। সেখানে পোশাক, বাঁকের অবশিষ্ট অংশ এবং শৌচাগারে মূত্রভর্তি প্লাস্টিকের বোতল ফেলে রেখে যাওয়ার মতো অস্বস্তিকর দৃশ্য সামনে এসেছে। সাফাইকর্মীরা চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই দিনরাত কাজ করে চলেছেন। স্থানীয়দের মতে, পবিত্র গঙ্গাজল নিতে আসা পুণ্যার্থীরাই যেভাবে শহরকে দূষিত করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক।

প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রশাসনের যুদ্ধকালীন তৎপরতা

এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সামলাতে হরিদ্বার পুরনিগম এবার আধুনিক প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করেছে। শহরের প্রতিটি ঘাট এবং জনবহুল এলাকায় কোথায় কোথায় আবর্জনা জমে রয়েছে, তা নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে এবার প্রথমবারের মতো ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে ‘সোলার সেন্সর ডাস্টবিন’।

হরিদ্বারের পুর কমিশনার নন্দন কুমার জানিয়েছেন, “মেলা শেষ হলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। শহরকে পূর্বের নির্মল অবস্থায় ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে।” রাতভর চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সাফাই কাজ, যাতে হরিদ্বারের পবিত্রতা রক্ষা করা যায়।

শুধু হরিদ্বার নয়, চিন্তা গঙ্গোত্রীকে নিয়েও

কানওয়ার যাত্রার পরবর্তী দূষণের ছবি শুধু হরিদ্বারেই সীমাবদ্ধ নেই। ‘প্লাস্টিকমুক্ত এলাকা’ হিসেবে পরিচিত গঙ্গোত্রীর অবস্থাও এখন উদ্বেগের কারণ। সেখানে প্রায় ৫৭ হাজার পুণ্যার্থীর ভ্রমণের পর বন দপ্তর বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫৭ বস্তা আবর্জনা ও পরিত্যক্ত পোশাক সংগ্রহ করেছে।

এত বিপুল জনসমাগম যে হরিদ্বারের মতো ছোট শহরের পরিকাঠামোর ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করে, এবারের ঘটনা তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। তীর্থস্থানের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্লাস্টিক দূষণ রোধ করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *