হু হু করে বাড়ছে গাড়ি বিক্রি! জুলাই মাসে ভারতের অটোমোবাইল বাজারে কোন বড় রেকর্ড ভাঙল?

ভারতের অটোমোবাইল খাতের জন্য জুলাই মাসটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং রেকর্ড ভাঙা একটি মাস হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স বা সিয়াম (SIAM)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই মাসে ডিলারদের কাছে ৩,৪০,৭৭২ ইউনিট যাত্রীবাহী গাড়ি পাঠানো হয়েছিল। আর এই বছরের জুলাই মাসে তা ৩৪.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সরাসরি ৪,৫৭,৮১০ ইউনিটে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে দেশের বাজারে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন গাড়ি কেনার আগ্রহ ও চাহিদা তুঙ্গে রয়েছে।

দুই ও তিন চাকার যানেও ব্যাপক উল্লম্ফন
কেবল চার চাকার যাত্রীবাহী গাড়িই নয়, গত জুলাই মাসে দেশের বাজারে দারুণ পারফরম্যান্স করেছে দু-চাকার ও তিন চাকার যানবাহনের বাজারও। সিয়ামের তথ্য বলছে, গত মাসে দেশজুড়ে মোট ১৯,২৩,৪৮৩টি দু-চাকার যান বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি হওয়া ১৫,৬৯,১২০ ইউনিটের তুলনায় ২২.৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দু-চাকার গাড়ির বিক্রি প্রায় ৩.৫৪ লক্ষ ইউনিট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাশাপাশি, তিন চাকার গাড়ির ক্ষেত্রেও এই উন্নতির ধারা বজায় রয়েছে। গত মাসে কোম্পানিগুলি ডিলারদের কাছে মোট ৯২,৫৬০টি তিন চাকার যান পাঠিয়েছে, যা গত বছরের জুলাই মাসে ছিল ৬৯,৪০৩ ইউনিট। অর্থাৎ, বার্ষিক তুলনার হিসেবে তিন চাকার গাড়ির সরবরাহ ৩৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে অটোমোবাইল শিল্পের তিনটি প্রধান বিভাগ—যাত্রীবাহী গাড়ি, দুই চাকার এবং তিন চাকার—সবকটি ক্ষেত্রেই জোড়া অঙ্কের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

কী বলছে সিয়াম ও মারুতি সুজুকি?
সিয়ামের মহাপরিচালক রাজেশ মেনন জানিয়েছেন, ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পে জুলাই মাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড গড়া হয়েছে। উৎসবের মরসুমের ঠিক প্রাক্কালে বাজারে গ্রাহকদের এই উৎসাহ ও চাহিদার গতি বজায় থাকায় খুশি গাড়ি নির্মাতারাও।

এদিকে, দেশের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা মারুতি সুজুকিও আগামী বছরগুলিতে ভারতীয় গাড়ির বাজারের আরও বড় সাফল্যের আশা দেখছে। কোম্পানির চেয়ারম্যান আর সি ভার্গবের মতে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে বার্ষিক যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি রেকর্ড ৬১ লক্ষ থেকে ৬৩ লক্ষ ইউনিটে গিয়ে ঠেকতে পারে। ছোট গাড়ির চাহিদার পুনরুজ্জীবন এবং বিশেষ করে এসইউভি (SUV)-এর তুঙ্গে থাকা বিক্রির ফলেই এই বিশাল প্রবৃদ্ধি সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে, আসন্ন উৎসবের মরসুমকে সামনে রেখে অটোমোবাইল খাতের এই চাঙ্গা ভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যই এক ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *