ফের বড় বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! ৩৩ হাজার বিঘা সরকারি জমি কাটার অভিযোগে আদালতের কড়া পদক্ষেপ

আইনি জট ও বিতর্কের মুখে ফের আইনি বিপাকে পড়লেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি ও অর্পিত (ভেস্টেড) জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, এই মামলায় নাম রয়েছে শাসক দলের একাধিক প্রভাবশালী বিধায়কেরও।

ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীগঞ্জের বাসিন্দা বাপন ঘোষ গত ১৫ জুলাই কৃষ্ণনগর জেলা দায়রা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে নদিয়ার কালীগঞ্জ ব্লক ছাড়াও নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রায় ৩৩ হাজার বিঘা সরকারি ও ভেস্টেড জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এই পুরো চক্রের নেপথ্যে বিপুল পরিমাণ আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তৃণমূল বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখ, কালিমগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদসহ মোট ৩০ জনের নাম যুক্ত রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় বেআইনি মাটি কাটার এই কারবারে হেভিওয়েটদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।

আদালতের কড়া নির্দেশ

সমস্ত তথ্য ও সওয়াল-জবাব শোনার পর বুধবার আদালতের বিচারক তরুণ কুমার মণ্ডল এই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর ও পুলিশি তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন। মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানিয়েছেন, আদালতের কাছে সমস্ত অভিযোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, যার গুরুত্ব বিচার করেই পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ রক্ষা ও সরকারি সম্পত্তি লুটের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো মামলাকারী বাপন ঘোষ আদালতের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, একেবারে তৃণমূল স্তরে সরকারি জমি ধ্বংস করে মাটি বিক্রির এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় এবং আদালত পুলিশি তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে এর তীব্র প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *