ঘুষখোর কেন্দ্রীয় কর্মীদের এবার রক্ষা নেই! নিজাম প্যালেস থেকে ডাকঘর—সবর্ত্র কড়া নজর সিবিআই-এর

কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের লাগামছাড়া ঘুষ নেওয়া এবং দুর্নীতির প্রবণতা কঠোর হাতে দমন করতে এবার নজিরবিহীন তৎপরতা বাড়াল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআই (CBI)। রাজ্য সরকার পূর্বে তুলে নেওয়া সাধারণ সম্মতি বা ‘জেনারেল কনসেন্ট’ পুনর্বহাল করার পর থেকেই রাজ্যে নিজেদের তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে এবার নিজাম প্যালেস (Nizam Palace) সহ রাজ্যের সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরে বিশেষ সচেতনতামূলক ব্যানার লাগাতে শুরু করেছে সিবিআই।

ব্যানারে থাকছে অভিযোগ জানানোর সুনির্দিষ্ট নম্বর
সাধারণ মানুষের হয়রানি ও দুর্নীতি রুখতে সিবিআইয়ের তরফে জারি করা ওই নোটিস ও ব্যানারে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের (যেমন—ব্যাংক, পোস্ট অফিস বা ডাকঘর, রেলওয়ে, আয়কর বিভাগ বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা)-এর কোনো কর্মী বা আধিকারিক যদি সাধারণ মানুষের কাছে কোনো কাজের বিনিময়ে ঘুষ চান, তবে তা যেন তৎক্ষণাৎ কলকাতার নিজাম প্যালেসে অবস্থিত সিবিআই-এর দুর্নীতি দমন শাখাকে (Anti-Corruption Branch) জানানো হয়।

অভিযোগ জানানোর জন্য সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে দুটি হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে:

ল্যান্ডলাইন নম্বর: ০৩৩-২২৮৯-৪৪০৩

মোবাইল নম্বর: ৯০৫১৬১৩৪৫৬

এই নির্দিষ্ট নম্বরগুলিতে সরাসরি ফোন করে যে কেউ সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে পারবেন। সবচেয়ে বড় কথা, যাঁরা ঘুষ নেওয়ার বিরুদ্ধে মুখ খুলবেন বা অভিযোগ জানাবেন, তাঁদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার কড়া আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

সাধারণ সম্মতি ও পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
বস্তুত, অতীতে সারদা কাণ্ডে তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে জেরা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজ্য রাজনীতি। সেই সময় তৃণমূল সরকার সিবিআই তদন্তের ওপর থেকে ‘সাধারণ সম্মতি’ (General Consent) তুলে নিয়েছিল। এর ফলে রাজ্য পুলিশের সাহায্য ছাড়া চাইলেও কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত চালাতে সমস্যায় পড়তে হতো সিবিআইকে। পরবর্তী সময়ে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই সাধারণ সম্মতি পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আর আইনি সেই বাধা কাটতেই রাজ্যে সিবিআইয়ের তৎপরতা এখন একেবারে তুঙ্গে।

উল্লেখ্য, সমাজে প্রায়ই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষকে ছোটখাটো কাজ করাতে গিয়ে হেনস্তা হতে হয় এবং আকছারই ঘুষ বা কাটমানি চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ব্যাংক, পোস্ট অফিস থেকে শুরু করে রেল বা আয়কর দপ্তরের নানা স্তরে চলা এই বেনিয়ম ও তোলাবাজির সংস্কৃতি বন্ধ করতে সিবিআইয়ের এই কড়া পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *