দলত্যাগীদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে তৃণমূল! ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের কপালে কি বড় আইনি বিপদ?

সংসদের বাদল অধিবেশন সমাপ্ত হলেও বিদ্রোহী সাংসদদের ভাগ্য নির্ধারণ নিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলা থামছে না। দলবদলকারী ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ওই কুড়িজন এনসিপিআই (NCPI) সাংসদের বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস শিবির।

স্পিকারের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ ও আইনি পদক্ষেপ

এর আগে দলত্যাগ বিরোধী আইনে বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে জোরালো সওয়াল করেছিল শাসক দল। গত জুন মাসে স্পিকারের কাছে ওই ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়ে পৃথক কুড়িটি চিঠি জমা দেওয়া হয়। এরপর গত জুলাই মাসে খোদ তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন দিল্লির সংসদ ভবনে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।

কিন্তু অভিযোগ, দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও স্পিকারের তরফ থেকে কোনো কঠোর বা চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় স্তরে এনডিএ (NDA)-র বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে এই বিদ্রোহী সাংসদদের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্পিকারের দপ্তর থেকে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ না মেলায় এবার আইনি পথেই হাঁটতে চলেছে রাজ্যের শাসক দল।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও বর্তমান পরিস্থিতি

নিয়ম অনুযায়ী, দলত্যাগ বা এই ধরনের সাংবিধানিক বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিষয়গুলি বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাদল অধিবেশন শেষ হয়ে গেলেও কোনো রফাসূত্র না মেলায়, শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশকে হাতিয়ার করেই আইনি লড়াইয়ে নামছে তৃণমূল। সবমিলিয়ে, বিদ্রোহী এই ২০ জন সাংসদের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে, যা আসন্ন দিনে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বড় ঝড় তুলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *