অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় ঘোষণা! বিধবা ভাতা প্রাপকরা কি পাবেন ৩ হাজার টাকা? জানুন নতুন নিয়ম

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা’। মূলত রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক স্বাবলম্বী করে তুলতে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলাদের জন্য এই বিশেষ ভাতা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা করে অনুদান পাওয়ার কথা।
প্রকল্প চালুর নেপথ্য ও আর্থিক অনুদান
২০২৬ সালের মে মাসে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পূর্বের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পরিবর্তে এই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা’ রূপায়ন করা হয়। গত ১ জুন ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই জনমুখী প্রকল্পে যোগ্য ভুক্তভোগী মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি (DBT) মারফত ৩,০০০ টাকা অর্থাৎ বছরে মোট ৩৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কথা।
কারা পাবেন এই সুবিধা এবং যোগ্যতার মাপকাঠি?
প্রকল্পের উপভোক্তা নির্বাচন নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠলেও রাজ্য সরকারের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে:
আবেদনকারী মহিলাকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
যে সমস্ত পরিবারের মাসিক আয় ১০,০০০ টাকার বেশি, তারা এই ভাতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
পরিবারের কোনো সদস্য যদি সরকারি চাকরি করেন কিংবা নিয়মিত সরকারি পেনশন পান, তবে সেই পরিবারের মহিলারা এই ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন।
বিধবা ভাতা প্রাপকদের কি মিলবে ৩ হাজার টাকা?
সবথেকে বড় প্রশ্ন ছিল, যারা ইতিমধ্যে বিধবা ভাতা বা অন্য কোনো সরকারি অনুদান পাচ্ছেন, তারা কি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩,০০০ টাকা পাবেন?
এই বিষয়ে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে যে সমস্ত মহিলারা ৩ হাজার টাকার কম পেনশন পান—ধরা যাক যারা এতদিন বিধবা ভাতা বাবদ ১,০০০ টাকা পেতেন এবং যা পরবর্তীতে বেড়ে ১,৫০০ টাকা হয়েছে—তাদের ক্ষেত্রে সরাসরি অন্নপূর্ণা যোজনার পুরো ৩,০০০ টাকাটাই প্রদান করা হচ্ছে। অর্থাৎ, মহিলাদের কল্যাণার্থে চালিত অন্যান্য ছোটখাটো স্কিমে যারা ৩ হাজার টাকার কম অনুদান পাচ্ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নির্ধারিত সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকাই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।