পাক এজেন্টের কলকাতা কানেকশন! তিলজলায় লুকিয়ে ৫ বার ভারতে প্রবেশ, এসটিএফের জালে রানা রউফ

বাংলার গোয়েন্দাদের চোখ এড়িয়ে বারবার ভারতে প্রবেশ করে নাশকতাকারীদের মদত জোগানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে। বুধবার বেঙ্গল এসটিএফ (STF)-এর হাতে ধৃত এই সন্দেহভাজন আইএসআই (ISI) এজেন্টকে ম্যারাথন জেরা করতেই একের পর এক রোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে।
৫ বার ভারতে প্রবেশ এবং তিলজলায় ঘাঁটি
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত রানা রউফ এর আগে মোট পাঁচবার ভারতে এসেছে। প্রতিবারই সে কলকাতার তিলজলা এলাকায় এসে ইজাজ নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিত। নির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সে ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং সবশেষ ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতায় এসে ঘাঁটি গেড়েছিল।
ভুয়া পরিচরপত্র ও সেনায় ব্যর্থতার ক্ষোভ
বেঙ্গল এসটিএফের জেরায় ধৃত রানা রউফ কবুল করেছে যে, তার মূল স্বপ্ন ছিল পাকিস্তান আর্মিতে চাকরি করা। কিন্তু শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে সে সেনাবাহিনীতে সুযোগ পায়নি। এরপরই সে পাকিস্তান আর্মি ও আইএসআই (ISI)-এর উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে এবং ধীরে ধীরে পাক গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টে পরিণত হয়।
ভারতে স্থায়ীভাবে যোগাযোগ রাখার খাতিরে সে এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করে। ধৃত ইজাজের বাবা যুবের আলমকে নিজের পিতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সে প্রথমে একটি জাল ভারতীয় ভোটার কার্ড বানায়। সেই ভোটার কার্ডকে হাতিয়ার করেই সে একে একে ভারতের প্যান কার্ড (PAN) এবং আধার কার্ডও (Aadhaar Card) তৈরি করে ফেলে।
আগামী দিনের পরিকল্পনা ও প্রশাসনের নজরদারি
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির পর একাধিক সিম কার্ড তুলে সেগুলির মাধ্যমেই আইএসআই হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত রানা। তার পরবর্তী পরিকল্পনা ছিল বনগা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সেখান থেকে সোজা পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়া। তবে তার আগেই বেঙ্গল এসটিএফের জালে ধরা পড়ে যায় ওই সন্দেহভাজন।
অন্যদিকে, একদিকে যখন এই জঙ্গি ও গুপ্তচর চক্রের শেকড় কাড়তে তৎপর গোয়েন্দারা, ঠিক তেমনই অন্যদিকে কলকাতার রেড রোডে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের চূড়ান্ত কুচকাওয়াজের শেষ মুহূর্তের মহড়া ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় খতিয়ে দেখছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। এছাড়া রাজনৈতিক ময়দানে কুণাল ঘোষের কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং সংসদের বাদল অধিবেশনের অচলাবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির ওপরও সজাগ দৃষ্টি রেখেছে ওয়াকিবহাল মহল।