ইমরান খান আর বেঁচে নেই? পাক সাংবাদিকের দাবি ঘিরে পাকিস্তান জুড়ে শোরগোল

কবে জেল থেকে মুক্তি পাবেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খান—এই প্রশ্ন যখন গোটা পাক জনতার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ই তাঁর জীবন ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে শুরু হয়েছে এক ভয়ঙ্কর জল্পনা। আমেরিকাবাসী এমি-নমিনেটেড পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সৈয়দ খানের একটি বিস্ফোরক দাবিকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও পাকিস্তানের অন্দরে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

সাংবাদিক ওয়াজাহাত সৈয়দ খানের বিস্ফোরক দাবি

গত ১০ অগাস্ট নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সাংবাদিক ওয়াজাহাত সৈয়দ খান দাবি করেছেন, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও সেনাবাহিনীর সিনিয়র ডিফেন্স সূত্র মারফত তিনি জানতে পেরেছেন যে ইমরান খান জেলেই মারা গিয়ে থাকতে পারেন

তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে নিজেই সংশয় প্রকাশ করেছেন ওই সাংবাদিক। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ডিফেন্স সূত্রের খবর অনুযায়ী এই দাবি করা হলেও, ওই আধিকারিকরা নিজের চোখে কিছু দেখেননি এবং তাঁদের কাছে এর সপক্ষে সরাসরি কোনো নিশ্চিত প্রমাণ বা ডেড বডি দেখার তথ্য নেই। তা সত্ত্বেও এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে ভূকম্পন শুরু হয়েছে।

পিটিআই-এর হুঁশিয়ারি ও লং মার্চের ডাক

ওয়াজাহাতের এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন গত মঙ্গলবারই ইমরান খানের পরিবার এবং তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর নেতারা অভিযোগ করেন যে জেলের অন্দরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে এই লাগাতার গোপনীয়তা ও উদ্বেগের জেরে পাক প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কড়া হুংকার দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী তথা পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের এই দমনপীড়ন চলতে থাকলে দেশের তরুণদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আছড়ে পড়বে এবং ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পিটিআই। দলের পক্ষ থেকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদের দিকে একটি বড়সড় লং মার্চ করার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি অবিলম্বে পরিবার ও চিকিৎসকদের ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক চাপ ও আমেরিকার হস্তক্ষেপ

শুধু দেশের অন্দরেই নয়, বন্দি ইমরান খানকে ঘিরে পাকিস্তানের উপর বাইর থেকেও কূটনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার একটি দল আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে তারা ইসলামাবাদের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইমরান খান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির বন্দিদশা ও নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি আলোচনা করার জোরালো আর্জি জানিয়েছেন।

কেন জেলে বন্দি ইমরান খান?

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ২০২৩ থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বর্তমানে তিনি ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের বহুল আলোচিত আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাত বছরের জেল দেওয়া হয়। দম্পতি উভয়েই এই সাজাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন।

পাশাপাশি, ২০২৩ সালের ৯ মে-র হিংসাত্মক বিক্ষোভের ঘটনাতেও ইমরানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই সময় পিটিআই সমর্থকদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বিভিন্ন সেনা ঘাঁটি ও গ্যারিসন পোস্টে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। এর আগে স্ত্রী বুশরা বিবিকে জেলের অন্দরে নির্যাতন ও নিজের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে দায়ী করে আসছিলেন ইমরান খান। বর্তমান পরিস্থিতিতে জল্পনা আর রাজনৈতিক সংঘাতে পাকিস্তানজুড়ে ফের বড় ধরণের অশান্তির কালো মেঘ ঘনাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *