রাশিয়ার ভরসা প্রাক্তন CJI চন্দ্রচূড়, ইউক্রেন যুদ্ধ মামলায় বড় দায়িত্ব নিলেন চন্দ্রচূড়

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক চাঞ্চল্যকর ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপে নাম জড়াল ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি (CJI) ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের। ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন এবং গ্লোবাল আরবিট্রেশন রিভিউ (Global Arbitration Review)-এর সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার একটি হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক সালিশি মামলায় রাশিয়ার পক্ষে সালিশকারক বা নিরপেক্ষ আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন তিনি।
ঠিক কী মামলা এটি?
মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ‘ওশ্চাদব্যাঙ্ক’ (Oschadbank)-এর সম্পত্তি ও ব্যবসায়িক ক্ষয়ক্ষতি নিয়েই এই আন্তর্জাতিক মামলার সূত্রপাত। ব্যাঙ্কটির প্রধান দাবি, ২০২২ সালে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে তাদের বিপুল সম্পত্তি, ব্যবসা ও ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
১৯৯৮ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় এই মামলার মাধ্যমে রাশিয়ার কাছে কয়েকশো মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ওশ্চাদব্যাঙ্ক। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া অধিগ্রহণের পর ব্যাঙ্কের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার অভিযোগে ওশ্চাদব্যাঙ্কের করা আগের মামলায় প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ এসেছিল। আর বর্তমান মামলাটি ২০২২ সালের পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত।
তিন সদস্যের সালিশি ট্রাইব্যুনাল
এই আন্তর্জাতিক মামলার শুনানি পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে:
-
প্রেসিডেন্ট: কোস্টা রিকার প্রাক্তন বাণিজ্যমন্ত্রী তথা বিশিষ্ট সালিশকারক দিয়ালা জিমেনেজ (যাঁকে রাশিয়া ও ওশ্চাদব্যাঙ্ক যৌথভাবে বেছে নিয়েছে)।
-
ওশ্চাদব্যাঙ্কের প্রতিনিধি: গ্রিসের সালিশকারক এবং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের অধ্যাপক স্তাভ্রোস ব্রেকৌলাকিস।
-
রাশিয়ার প্রতিনিধি: ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়।
এর আগের প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন চন্দ্রচূড়
রিপোর্ট অনুযায়ী, এর আগেও রাশিয়া ও ইউক্রেন সংক্রান্ত গ্যাস ও তেল সংস্থা উইন্টারশেল ডিয়া এবং বিদ্যুৎ সংস্থা ইউক্রেনেগো সংক্রান্ত দুটি আন্তর্জাতিক মামলায় রাশিয়ার হয়ে সালিশকারক হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়। তবে সেই সময় তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। এমনকি একটি মামলায় নিরপেক্ষ আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগকর্তার দায়িত্ব পাওয়ার পর রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় তিনি সেই দায়িত্ব থেকেও স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে এবার ওশ্চাদব্যাঙ্কের মামলাটিতে রাশিয়ার তরফে তাঁর এই নিয়োগ আন্তর্জাতিক আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।