জাতীয় সঙ্গীতের মতো এবার আইনি সুরক্ষা ‘বন্দে মাতরম’-এর! অপমান করলে হতে পারে কড়া জেল?

এতদিন ধরে শুধুমাত্র জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ গাওয়ার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত বাধা দেওয়া বা অপমান করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হলেও, জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’-এর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো আইনি সুরক্ষা বা কড়া শাস্তির সংস্থান ছিল না। তবে এবার সেই ঐতিহাসিক অভাব দূর করল কেন্দ্র সরকার। ১৯৭০ সালের ‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার’ (Prevention of Insults to National Honour Act) আইন সংশোধন করে ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকেও এর কঠোর আইনি সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হলো।
আইনি সুরক্ষা ও শাস্তির বিধান কী?
রাষ্ট্রপতির তরফ থেকে এই বিশেষ সংশোধনী বিলে সরকারিভাবে সম্মতি দেওয়ায় এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকরী আইনে পরিণত হয়েছে। এর ফলে, এখন থেকে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়ার সময় কোনো রকম বাধা সৃষ্টি করে, সরকারি বা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে গণ্ডগোল পাকায় কিংবা এই জাতীয় গানটিকে কোনোভাবে অপমান করে, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
এই ধরনের অপরাধের জন্য আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন বছরের জেলের সাজা, আর্থিক জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। শুধু তাই নয়, যদি কেউ বারবার এই আইন ভঙ্গ করেন, তবে তাঁর জন্য আরও কড়া ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে আইনে।
কেন দেওয়া হলো সমান মর্যাদা?
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি ভারতের সংবিধান সভার সভাপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলন যে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’ গানটির ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক অনন্য ও অসামান্য অবদান রয়েছে। তাই জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর ঠিক সমকক্ষ হিসেবেই ‘বন্দে মাতরম’-কেও সমান সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া উচিত। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত দশক পর কেন্দ্রের মোদী সরকার সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাকেই এবার আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে আরও বেশি মজবুত করল।
কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা ও নিয়মাবলী
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে সম্প্রতি ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া ও তার মর্যাদা রক্ষা নিয়ে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী—
চলতি বছরেই স্বাধীনতা দিবসের প্রধান অনুষ্ঠানে দিল্লির লালকেল্লায় এবার বিশেষভাবে গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’।
কোনো সরকারি বা জাতীয় অনুষ্ঠানে যদি জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় স্তোত্র—উভয় গানই একসঙ্গে গাওয়ার নিয়ম থাকে, তবে প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ এবং পরবর্তীতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হবে।
নির্দেশিকায় পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যখনই ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হবে, তখন উপস্থিত সকলকেই ‘অ্যাটেনশন’ বা সাবধান মুদ্রায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হবে।
এছাড়া দেশের সমস্ত রাজ্যের স্কুলগুলিতে প্রতিদিন প্রার্থনা সভা বা ক্লাস শুরু হওয়ার আগে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কড়া নির্দেশ বা পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র।