বিপাকে ফিফা প্রধান ইনফান্তিনো! বয়কটের হুমকির মাঝে ত্রাতা হয়ে উঠলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

একাধিক চাঞ্চল্যকর বিতর্কে জড়িয়ে বর্তমানে চরম কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ফিফা (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino)। উয়েফা (UEFA) এবং এএফসি (AFC)-সহ বিশ্বের একাধিক ফুটবল সংস্থা ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ বয়কটের হুশিয়ারি দিয়েছে। ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে পদত্যাগ করার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে খবর। ঠিক এমন এক সংকটজনক মুহূর্তে ফিফা প্রধানের সমর্থনে প্রকাশ্যে আসরে নামলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইনফান্তিনোর হয়ে ব্যাট ধরেছেন তিনি।

কী বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
ইনফান্তিনোর সমর্থনে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ট্রাম্প লিখেছেন:

“যে কারণেই হোক, ফিফা যদি সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা ভাবে, তাহলে তা হবে এক ভয়াবহ ভুল। তিনি একজন অসাধারণ মানুষ। তাঁর নেতৃত্বেই এখনও পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি যদি পদত্যাগ করে চলে যান, তবে এরপর আর কখনও এত সফলভাবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করা সম্ভব হবে না।”

ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য মন্তব্যের পর বিশ্ব ফুটবলের অন্দরে রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

ঠিক কী নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক?
ফিফা প্রধানকে ঘিরে বর্তমান এই তীব্র বিতর্কের নেপথ্যে রয়েছে একটি বাণিজ্যিক পরিকল্পনা:

ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ: ফিফার প্রতিযোগিতাবলীর বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত দিক দেখার জন্য ইনফান্তিনো ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন সংস্থা তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন।

শেয়ার বিক্রি: পরিকল্পনা ছিল এই নতুন সংস্থার প্রায় ২১ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হবে। আর এই বেসরকারি বিনিয়োগকারী সংস্থার তালিকায় মূল নাম হিসেবে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতার বড় ভাইয়ের কোম্পানি!

প্রতারণার অভিযোগ: এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে হুলুস্থুল পড়ে যায়। ইউরোপের ফুটবল সংস্থা উয়েফা, এশিয়ান সংস্থা এএফসি এবং মধ্য আমেরিকা-ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সংস্থা কনকাকাফ (Concacaf)—এই তিনটি শক্তিশালী মহাদেশীয় সংস্থা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতারণার অভিযোগ আনে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইনফান্তিনো ক্ষমাও চেয়ে নেন, কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি।

বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি ও পদত্যাগের চাপ
বিতর্ক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উয়েফা ও এএফসি-র প্রধানরা ফিফাকে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়ে এই ঘটনার একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ওই চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়েছে— “ফুটবল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ক্ষমতা ধরে রাখা নেতৃত্বের উদ্দেশ্য হতে পারে না। প্রতারণার মাধ্যমে যখন বিশ্বাস ভঙ্গ হয়, তখন সেই দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াতে হয়।”

জানা গিয়েছে, এই সংস্থাগুলি ইনফান্তিনোকে সরাসরি জোর না করে ‘সম্মানের সঙ্গে সরে যাওয়ার’ সুযোগ দিতে চাইছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো— আগামী বছরের মার্চ মাসে হতে চলা ফিফার নির্বাচনে যেন ইনফান্তিনো আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেন।

তবে ট্রাম্প যেভাবে খোদ আসরে নেমে ইনফান্তিনোর পক্ষ নিয়েছেন, তাতে আগামী দিনে ফিফা এবং মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাগুলির মধ্যকার এই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *