রাঁচিতে ছাত্র বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি! পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বাতিল এবং পরীক্ষা পেছানোর প্রতিবাদে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে পরিস্থিতি ক্রমশ অশান্ত হয়ে উঠছে। সোমবার বিধানসভা অভিযানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের তথাকথিত ‘বর্বরতা’ এবং লাঠিচার্জের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে বনধ ও প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়। আর এর জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাঁচির রাজপথ হয়ে ওঠে রণক্ষেত্র। রাস্তা অবরোধ, টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা শহর।
রাঁচিতে তীব্র ছাত্র বিক্ষোভ ও পুলিশের কড়া পদক্ষেপ
সোমবার পুরোনো বিধানসভা ভবন থেকে নতুন বিধানসভার দিকে লং মার্চ করার সময় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাতে বাধ্য হয়। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার দাবি করেন, অন্যদিকে পুলিশের তরফে জানানো হয় যে তাঁদের অন্তত ১৪ জন কর্মীও এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন।
তারই রেশ ধরে মঙ্গলবার এবিভিপি (ABVP)-র সদস্য ও ছাত্রকর্মীরা পুরোনো বিধানসভা এলাকা থেকে ফের মিছিল বের করেন।
রাস্তা অবরোধ ও টায়ার পোড়ানো: পুলিশ সূত্রে খবর, বিজেপি ও ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা এদিন কাঙ্কে রোড, কিশোরগঞ্জ, অর্গোরা এবং কাঙ্কে এলাকায় তীব্র সড়ক অবরোধ করেন। এছাড়া নিউক্লিয়াস মল, হরমু চক এবং কিশোরগঞ্জ চকের কাছে প্রকাশ্যে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়, যার ফলে ওই সমস্ত এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
এবিভিপি কর্মী আটক: পরিস্থিতি সামাল দিতে মঙ্গলবার বেশ কয়েকজন এবিভিপি সদস্যকে আটক করে পুলিশ।
সংসদের অন্দরেও প্রবল রাজনৈতিক সংঘাত
রাঁচির এই ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব সরাসরি এসে পড়ে জাতীয় রাজধানীতেও। মঙ্গলবার সংসদ ভবনের প্রধান গেটের সামনে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসেন শাসক ও বিরোধী দলের সাংসদরা।
পাল্টা স্লোগান ও বিক্ষোভ: ঝাড়খণ্ডের ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে।
রাহুল গান্ধীকে নিশানা এনডিএ-র: এনডিএ (NDA) সাংসদরা পার্লামেন্ট লাইব্রেরি থেকে ‘মকর দ্বার’ পর্যন্ত একটি মিছিল করেন এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ছাত্র আন্দোলন নিয়ে বিতর্ক বা আলোচনা থেকে ‘পালিয়ে বেড়াচ্ছেন’ বলে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁরা ‘রাহুল গান্ধী জবাব দাও’ স্লোগানে সংসদ চত্বর মুখরিত করে তোলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব তলব বিরোধীদের: অন্যদিকে, বিরোধীরা গত ২০ জুলাই রাজধানী দিল্লিতে পেপার লিক ও ছাত্র বিক্ষোভের সময় পুলিশের পদক্ষেপের জেরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে কড়া জবাবদিহিতা দাবি করেন। সব মিলিয়ে রাঁচির রাজপথ থেকে শুরু করে সংসদের অন্দরমহল— উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে।