‘আমি কিন্তু শিখিয়ে গেলাম!’ হালিশহরে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ শুভেন্দুর!

রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মানবিকতার এক নতুন নজির গড়লেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক বৈরিতা ও ‘আমরা-ওরা’ বিভেদের দেওয়াল ভেঙে সোজা মৃত এক তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে গিয়ে হাজির হলেন তিনি। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি তীব্র ভাষায় আগের সরকারের জমানাকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সংঘাতের সংস্কৃতি বরদাস্ত করা হবে না। হালিশহরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে।
রাজনৈতিক সৌজন্য নাকি কড়া বার্তা?
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের জেরে উত্তপ্ত ছিল হালিশহর। সেখানে এক মৃত তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রতিপক্ষ শিবিরের কর্মীর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতি এক বিরল ও ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এর আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হালিশহর সফর ও সেখানে ঘটা বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন শুভেন্দু।
এদিন মৃত কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মৃত্যু নিয়ে কেউ রাজনীতির সুযোগ দেয়নি, এটা অত্যন্ত স্বস্তির বিষয়। মৃত কর্মীর পরিবার সরকারের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। অথচ অতীতে বিরোধীদের ওপর কীভাবে দমনপীড়ন চালানো হয়েছে তা সকলের জানা।”
‘আমি কিন্তু হালিশহরে শিখিয়ে গেলাম…’
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পূর্ববর্তী সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, বিগত পাঁচ বছরে রাজনৈতিক হিংসায় ৩২১ জন বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “আপনারা অতীতে বিরোধীদের বাড়িতে যাওয়ার কোনো সৌজন্য দেখাননি। কিন্তু আমি আজ হালিশহরে এসে শিখিয়ে গেলাম কীভাবে বিভেদের রাজনীতি দূরে সরিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিল, অন্যদিকে তেমনই বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এক সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করার চেষ্টা করল।