দিল্লি পুলিশের এএসপি-র তালাবন্ধ বাড়িতে হানা! রাতের অন্ধকারে লক্ষাধিক টাকার সোনা ও নগদ নিয়ে চম্পট চোরেরা

খালি বাড়ি দেখে আগে থেকেই রেকি, তারপর গভীর রাতে তালা ভেঙে লক্ষাধিক টাকার সোনা-রুপার গয়না ও নগদ টাকা লুঠ করে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। খোদ দিল্লি পুলিশের এক সহকারী পুলিশ সুপারের (ASP) তালাবন্ধ বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় গ্রেটার নয়ডার ইমালিয়া গ্রাম জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে ইকোটেক-১ থানার পুলিশ।

ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইমালিয়া গ্রামের বাসিন্দা যশবন্ত জানিয়েছেন যে তাঁর চাচাতো ভাই আজব সিং বর্তমানে দিল্লি পুলিশে এএসপি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ইমালিয়া গ্রামে তাঁর একটি নিজস্ব বাড়ি থাকলেও কিছুদিন আগে তিনি সপরিবারে দিল্লিতে চলে যান। আর এই সুযোগটিকেই কাজে লাগায় দুষ্কৃতীরা। বাড়িটি যে দীর্ঘদিন ধরে তালাবন্ধ রয়েছে, তা আগেই রেইকি করে বুঝে নিয়েছিল চোরের দল।

এরপর গত রবিবার গভীর রাতে, আনুমানিক রাত বারোটার নাগাদ ওই বাড়িতে চড়াও হয় অজ্ঞাতপরিচয় চোরেরা। মূল গেটের তালা ভেঙে তারা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় ২৮ হাজার টাকা, লক্ষাধিক টাকার বহুমূল্য সোনা-রুপার গয়না এবং বেশ কিছু দামি পোশাকপত্র নিয়ে চম্পট দেয় তারা।

পরিবারের বাড়ি ফেরা ও পুলিশের পদক্ষেপ
পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে আসার পর দেখেন যে প্রধান দরজার তালা ভাঙা রয়েছে এবং ঘরের ভেতরের সমস্ত জিনিসপত্র মেঝেতে এলোপাথাড়ি ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় পড়ে আছে। চুরি যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতেই সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হয়।

খবর পাওয়া মাত্রই ইকোটেক-১ থানার পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে বাড়ির আশেপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঠিক কীভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটল এবং এর নেপথ্যে কতজন দুষ্কৃতী জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ইকোটেক-১ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরবিন্দ সিং জানিয়েছেন যে, এই ঘটনায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই এই চুরির রহস্য উদ্ঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *