ইরান সংকটের জেরে পকেটে টান! সেপ্টেম্বর থেকেই কি হু হু করে বাড়বে দৈনন্দিন জিনিসের দাম?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং ইরান সংকটের জেরে বিশ্ব বাজারে ফের বাড়ছে কাঁচামালের খরচ। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের পকেটে। খরচ সামলাতে এফএমসিজি (FMCG) বা দ্রুত বিক্রয়যোগ্য ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকেই সমস্ত জিনিসের দাম আরও কিছুটা বাড়ানোর জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুধু দাম বাড়ানোই নয়, অনেক কোম্পানি ‘শ্র্রিংকফ্লেশন’ (shrinkflation)-এর পথেও হাঁটার কথা বিবেচনা করছে। অর্থাৎ পণ্যের দাম না বাড়িয়ে সরাসরি প্যাকেটের ভেতর মালের পরিমাণ কমিয়ে আনা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই পণ্যের দাম প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে লাভের অঙ্ক ধরে রাখতে বড় কোম্পানিগুলো আরও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্রিটানিয়ার পরিস্থিতি ও ‘শ্র্রিংকফ্লেশন’ কৌশল
বিস্কুট প্রস্তুতকারক শিল্পের অন্যতম বড় নাম ব্রিটানিয়া (Britannia) এর একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ। কোম্পানিটি চলতি প্রান্তিকে দামের ওপর আরও ১.৫ থেকে ২ শতাংশ বাড়তি চাপের আশঙ্কা করছে। যার একটি বড় অংশ মেটানো হতে পারে ‘শ্র্রিংকফ্লেশন’ নীতির মাধ্যমে, বিশেষ করে ৫ ও ১০ টাকার ছোট প্যাকেটগুলোর ক্ষেত্রে।

চিনি ও পাম অয়েলের মতো অতিপ্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম লাফিয়ে বাড়ায় এই আর্থিক চাপের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটানিয়ার এমডি ও সিইও রক্ষিত হারগাভে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, জুন প্রান্তিকে দাম কিছুটা বাড়ানো হলেও তা কাঁচামালের লাগামছাড়া খরচ বৃদ্ধির পুরোটা পুষিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ও ডাবরের পরিকল্পনা
হিন্দুস্তান ইউনিলিভার (Hindustan Unilever): মুদ্রাস্ফীতির বাড়তি চাপের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত এই সংস্থাও। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ২ থেকে ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা করে বিভিন্ন পণ্য-শ্রেণিতে ধাপে ধাপে দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে তারা।

ডাবর ইন্ডিয়া (Dabur India): কোম্পানির মতে, কাঁচামালের চড়া দাম আগামী দিনেও উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে থাকবে। মুদ্রাস্ফীতির আংশিক বোঝা ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপানোর ফলে তাদের আয় ও পণ্যের দামের বৃদ্ধি অনেক ক্ষেত্রে বিক্রয়ের পরিমাণকে (ভলিউম) ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এছাড়াও, কাঁচামালের বাজার চড়া থাকলে ভবিষ্যতে পণ্যের দাম আরও বাড়ানোর রাস্তা খোলা রেখেছে গোদরেজ কনজিউমার প্রোডাক্টস এবং টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস-এর মতো শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোও।

অ্যালকোহল ও প্রিমিয়াম বাজারের উলটো চিত্র
সাধারণ ভোগ্যপণ্যের বাজারে যেখানে মূল্যবৃদ্ধির কারণে মন্দার মেঘ, ঠিক তার উলটো ছবি ধরা পড়েছে অ্যালকোহল বা মদশিল্পের বাজারে। একদিকে সাধারণ মানুষ যখন এফএমসিজি পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে ক্রেতারা ক্রমশ বেশি দামে প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির অ্যালকোহল কিনতে ঝুঁকছেন।

জুন প্রান্তিকে ইউনাইটেড স্পিরিটস (United Spirits), র‍্যাডিকো খাইতান (Radico Khaitan) এবং অ্যালাইড ব্লেন্ডার্স অ্যান্ড ডিস্টিলার্স-এর প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির পণ্য বিক্রিতে দুই অঙ্কের (double-digit) দুর্দান্ত বৃদ্ধি দেখা গেছে। এমনকি ইউনাইটেড ব্রুয়ারিজ-ও প্রিমিয়াম পণ্যের বিক্রির পরিমাণে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে।

র‍্যাডিকো খাইতানের চমক: এই প্রান্তিকে তাদের প্রিমিয়াম পণ্যের বিক্রির পরিমাণ এক লাফে ৩৫.৮ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি কোম্পানিটি তাদের আয়ে ১৩.২২ শতাংশ এবং মোট নিট মুনাফায় ৭৬ শতাংশ বিরাট বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।

ইউনাইটেড স্পিরিটস: প্রিমিয়াম পণ্যের রমরমা বাজারে এদের নিট মুনাফা ৫১.৬ শতাংশ বেড়েছে এবং মোট আয় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬,১১৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে পোর্টফোলিওর অন্য একটি অংশে জনপ্রিয় বা কম দামি পণ্য-বিভাগে নিট বিক্রয়মূল্যে বড় ধরনের পতনও লক্ষ্য করা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *