বছরের পর বছর একই ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করছেন? অজান্তেই বড় বিপদে পড়ছেন না তো!

র্তমান যুগে ইন্টারনেট ছাড়া একটি মুহূর্তও কল্পনা করা অসম্ভব। কিন্তু ওয়াইফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামান্য কিছু ভুলের কারণে বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন আপনি। বছরের পর বছর ধরে একই ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার অভ্যাস কিংবা রাউটার সেটআপ করার পর সিকিউরিটি সেটিংসের কথা ভুলে যাওয়ার কারণে অজান্তেই চুরি হতে পারে আপনার ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক। এর ফলে একদিকে যেমন ইন্টারনেটের গতি বা স্পিড মারাত্মকভাবে কমে যায়, তেমনই আপনার অমূল্য ডেটা দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং আপনার আইপি ঠিকানা (IP Address) অপব্যবহারের বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।
কেন চুরি হয় ওয়াইফাই ইন্টারনেট? ওয়াইফাই চুরির অন্যতম প্রধান কারণ হলো রাউটারের ডিফল্ট সেটিংস অপরিবর্তিত রাখা। বাজারে প্রচলিত প্রায় সব রাউটারেই ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড হিসেবে সাধারণত “admin” বা “password” সেট করা থাকে, যা অনলাইনে খুব সহজেই পাওয়া যায়। এই ডিফল্ট পাসওয়ার্ড না বদলালে যে কেউ খুব সহজেই আপনার রাউটারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নিতে পারে।
আপনার ওয়াইফাই কেউ চুরি করছে কিনা বুঝবেন কীভাবে? আপনার ওয়াইফাই অন্য কেউ ব্যবহার করছে কি না, তা যাচাই করার খুব সহজ একটি উপায় রয়েছে:
-
আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলের ব্রাউজার খুলে অ্যাড্রেস বারে 192.168.1.1 অথবা 192.168.0.1 টাইপ করে রাউটারে লগইন করুন।
-
এরপর রাউটার পেজের ‘Connected Devices’ বা ‘Device List’ অপশনে যান।
-
সেখানে আপনার নিজের বা পরিবারের পরিচিত ফোন-ল্যাপটপ ছাড়া অন্য কোনো অপরিচিত ডিভাইসের নাম বা আইপি অ্যাড্রেস দেখতে পেলেই নিশ্চিত হবেন যে আপনার ওয়াইফাই অন্য কেউ ব্যবহার করছে।
ওয়াইফাই সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে যে ৫টি কাজ অবশ্যই করবেন:
১. রাউটার অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন: ওয়াইফাইয়ের পাসওয়ার্ড আর রাউটারের অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড এক নয়। রাউটার সেটিংস পেজে ঢুকে অ্যাডমিন প্যানেলের পাসওয়ার্ডটি বদলে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সেট করুন। ২. নিরাপত্তা প্রোটোকল আপডেট: আপনার রাউটারের সিকিউরিটি টাইপ যদি WEP বা পুরানো WPA থাকে, তবে তা অত্যন্ত অসুরক্ষিত। রাউটার সেটিংস থেকে এটি বদলে লেটেস্ট WPA2-PSK অথবা WPA3 নির্বাচন করুন। ৩. WPS ফিচার বন্ধ রাখা: সহজে ওয়াইফাই কানেক্ট করার জন্য রাউটারে WPS অপশন থাকলেও এটি হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। তাই নিরাপত্তা জোরদার করতে রাউটার সেটিংস থেকে WPS পুরোপুরি বন্ধ রাখুন। ৪. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও SSID হাইড: ওয়াইফাইয়ের জন্য অন্তত ১৬ অক্ষরের একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড (সংখ্যা, বড়-ছোট হাতের অক্ষর ও বিশেষ চিহ্নের মিশ্রণ) ব্যবহার করুন। এছাড়া নিরাপত্তার খাতিরে আপনি আপনার ওয়াইফাইয়ের নাম বা SSID হাইড বা লুকিয়ে রাখতে পারেন, যাতে বাইরে থেকে কেউ নেটওয়ার্ক দেখতে না পায়। ৫. ম্যাক ফিল্টারিং ও ফার্মওয়্যার আপডেট: রাউটারে MAC Address Filtering চালু করলে আপনার অনুমোদিত ডিভাইসগুলি ছাড়া অন্য কেউ পাসওয়ার্ড জানলেও নেটওয়ার্ক কানেক্ট করতে পারবে না। পাশাপাশি, রাউটারের স্থায়িত্ব ও সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত এর ফার্মওয়্যার আপডেট করুন।