মোদীর সঙ্গে প্রাতঃরাশের ২৪ ঘণ্টা কাটতেই সোজা নবান্নে দুই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ! শুভেন্দুর সঙ্গে গোপন বৈঠকে রাজ্য রাজনীতিতে চরম তোলপাড়

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকের কালি শুকাতে না শুকাতেই বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন এবং তীব্র রাজনৈতিক সমীকরণ। শনিবার সকালেই আচমকা নবান্নে হাজির হন দুই ‘বিদ্রোহী’ এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ—আবু তাহের খান এবং খলিলুর রহমান। রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁদের এই আকস্মিক বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চরম জল্পনা।

সংবেদনশীল দুই ইস্যু ও নবান্ন বৈঠক

সূত্রের খবর, এদিনের এই বৈঠকে মূলত দুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

  • প্রথমত: এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং তদন্ত চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২৯ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার গুরুতর বিষয়টি তাঁরা তুলে ধরেন।

  • দ্বিতীয়ত: সম্প্রতি মসজিদে লাউডস্পিকার বা মাইক ব্যবহার সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও তাঁরা জোরালো অবস্থান নেন। মসজিদ থেকে কোনও মাইক্রোফোন না সরানোর পক্ষে সওয়াল করে তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমরা আইন মেনেই চলব।”

বৈঠক শেষে দুই সাংসদ দাবি করেন, তাঁদের সমস্ত বক্তব্য শোনার পর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে যেন কোনওভাবেই টার্গেট করা না হয়।

দিল্লির পর কলকাতা: মোদী-শাহের সঙ্গে বৈঠক

এর আগে শুক্রবারই দিল্লির লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে এক প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন এই দুই সাংসদ। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সংসদীয় বিতর্কে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি “এনডিএ একটি পরিবার”—এই বার্তা দিয়ে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও এই সাংসদদের বৈঠক হয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

দিল্লিতে খোদ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাতের ঠিক ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই কেন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন এই সাংসদরা? এই প্রশ্নের জবাবে আবু তাহের খান জানান, ভোটার তালিকা থেকে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া এবং ধর্মীয় ভাবাবেগের মতো জরুরি বিষয়গুলি তাঁরা ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ডবল ইঞ্জিন সরকারের কাছে তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, এমন কোনও পদক্ষেপ যেন নেওয়া না হয় যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।

এনডিএ যোগ নিয়ে সাফাই

এদিকে, বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোটে আনুষ্ঠানিক যোগদান সংক্রান্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন এই দুই সাংসদ। শনিবার তাঁরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, এনডিএ-র ব্যানারে কোনও বৈঠকে তাঁরা যোগ দেবেন না। তবে এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে আমন্ত্রণ পেলে তাঁরা সেই বৈঠকে অংশ নেবেন।

এই প্রসঙ্গে আবু তাহের খান বলেন,

“কাগজে-কলমে এনসিপিআই এখনও এনডিএ-র শরিক নয়। নামের পাশে এখনও এআইটিসি (AITC) লেখা থাকে, তৃণমূলের নেতা হিসেবেই বৈঠকে ডাকা হচ্ছে। রাজনীতি মানেই জটিলতা, তা কাটিয়ে ওঠাই আসল কাজ।”

দিল্লি থেকে কলকাতা—টানা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং রাজ্য স্তরে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলি আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে ঠিক কী ধরনের সমীকরণ তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *