গ্যাংস্টারদের ত্রাস পাঞ্জাব পুলিশ! মাত্র ২০০ দিনের মেগা অভিযানে ১ লক্ষের বেশি রেড, উদ্ধার অস্ত্র ও মাদক

মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সরকারের নেতৃত্বে পাঞ্জাব পুলিশের ফ্ল্যাগশিপ অ্যান্টি-গ্যাংস্টার অভিযান ‘গাংশ্রাণ তে বার’ (Gangstran Te Vaar) সফলভাবে তার ২০০ দিন পূর্ণ করেছে। সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে রাজ্যের ইতিহাসে এটি অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এবং ব্যাপকতম ক্র্যাকডাউন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই মেগা অভিযানে অপরাধ জগতের মূলে আঘাত হেনেছে পাঞ্জাব পুলিশ।

২০০ দিনের বড় সাফল্য ও পরিসংখ্যান
গত ২০০ দিনের এই বিশেষ অভিযানে রাজ্যজুড়ে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হয়েছে:

রেড: পুরো পাঞ্জাব জুড়ে মোট ১,০৯,০৮৭টি জায়গায় অভিযান বা রেড চালানো হয়েছে।

গ্রেফতার: মোট ১,৫৩২ জন মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীকে (Proclaimed Offenders) গ্রেফতার করা হয়েছে।

সরাসরি পদক্ষেপ: গ্যাংস্টার ও তাদের সহযোগী মিলিয়ে মোট ৫৮,০০০-এর বেশি অপরাধীর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশি নজরদারি: সব মিলিয়ে এই অভিযানে ২,৯৫৯ জন গ্যাংস্টার ও তাদের সহযোগী এবং ১,০১,৯৬৮ জন ওয়ান্টেড অপরাধী সহ মোট ১,০৪,৯২৭ জন ব্যক্তির ওপর নজরদারি বা আইনি প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।

ভেঙে দেওয়া হচ্ছে গ্যাংস্টারদের অস্ত্র ও আর্থিক পরিকাঠামো
শুধুমাত্র গ্রেফতারি নয়, অপরাধ চক্রের আর্থিক মেরুদণ্ড ও অস্ত্র ভাণ্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। গত ২০০ দিনে পুলিশ উদ্ধার করেছে:

অস্ত্রশস্ত্র: ৯৯০০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২৪২টি ধারালো অস্ত্র, ২,৭৩৯ রাউন্ড গুলি, ৩১৫টি ম্যাগাজিন, ২.৫ কেজি বিস্ফোরক এবং ১৫টি হ্যান্ড গ্রেনেড।

মাদক ও মাদক ব্যবসা: ৭৭৪.৩৮ কেজি হিরোইন, ৪৮০.২৩ কেজি আফিম, ৭,২৬৬.২৬ কেজি পোস্ত এবং প্রায় ২৬ লক্ষ ৯১ হাজার নেশার ট্যাবলেট।

নগদ ও সোনা: ১ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকারও বেশি ড্রাগ মানি, ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার ক্যাশ এবং ৪১৩ গ্রামের বেশি সোনা বাজেট করা হয়েছে।

অন্যান্য সামগ্রী: অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত ৪,৯৭৮টি মোবাইল হ্যান্ডসেট, ১,৭৮১টি যানবাহন এবং ৬১টি ড্রোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বিদেশ থেকেও গ্যাংস্টারদের প্রত্যর্পণ
অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স (AGTF)-এর প্রধান অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল প্রমোদ বান জানিয়েছেন যে, আজকের দিনে সংগঠিত অপরাধ শুধু গ্যাংস্টারে সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে রয়েছে ডিজিটাল যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র। সেন্ট্রাল এশিয়া থেকে কুখ্যাত গ্যাংস্টার ভুবনেশ চোপড়া ওরফে আশিস চোপড়া এবং ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে জোবনজিৎ সিং ওরফে জোবন বিল্লাকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার ঘটনা প্রমাণ করে যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও অপরাধীদের ছাড় দিচ্ছে না পাঞ্জাব পুলিশ।

সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ টিপলাইন
গ্যাংস্টার ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ দমনে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চায় পুলিশ। এর জন্য AGTF-এর পক্ষ থেকে একটি ডেডিকেটেড টিপলাইন (93946-93946) চালু করা হয়েছে। এই নম্বরে যে কেউ নাম গোপন রেখে গ্যাংস্টারদের সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবেন। এছাড়া সঠিক তথ্যের জন্য ক্যাশ রিওয়ার্ড বা নগদ পুরস্কারের নীতিও ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *