বিশ্বমঞ্চে ভারতের মুকুট অর্জনের লড়াই! মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিকিতা পরওয়াল?

প্রযুক্তিনির্ভর সংবাদ ও ফ্যাশন পোর্টাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিশ্বজুড়ে যে সমস্ত প্রতিভাবান মানুষ ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছেন, তাঁদের তালিকায় এবার নতুন সংযোজন মডেল নিকিতা পরওয়াল। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও মানুষী চিল্লার মতো তারকাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আসন্ন মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ (Miss World 2026) প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন তিনি। সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর প্রস্তুতি, মানসিক অনুভূতি এবং জীবনের নানা অজানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই তরুণী মডেল।

মিস ওয়ার্ল্ডের প্রস্তুতি ও মানসিক অবস্থা:
প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিকিতা জানান যে, বর্তমানে তাঁর দিন কাটছে ফিটনেস, যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি, র‍্যাম্প ওয়াক এবং ইন্টারভিউয়ের কঠিন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে। যখন কেউ গায়ে ‘ইন্ডিয়া’ লেখা জার্সি পরে, তখন তা শুধু একটি উত্তরীয় নয়, বরং লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক। মধ্যপ্রদেশের প্রথম ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ড হওয়ার গৌরব অর্জন করার পর থেকে তাঁর জীবনধারায় আমূল পরিবর্তন এসেছে।

ঐশ্বর্য রাই বচ্চন এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। তাঁদের মতোই নিজের মেধা ও সংস্কৃতির মিশেলে বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে চান তিনি।

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ও গতানুগতিক ধারণা:
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে থাকা গতানুগতিক ধারণা সম্পর্কে নিকিতা বলেন, “সবচেয়ে বড় ভ্রান্ত ধারণা হলো যে এই মঞ্চটি কেবল সৌন্দর্যের প্রদর্শনী। আজ এই মঞ্চ আপনার চিন্তাভাবনা, ব্যক্তিত্ব এবং সমাজে আপনার অবদানের ওপর সমান গুরুত্ব দেয়। আপনার পরিচয় বাহ্যিক রূপ দিয়ে নয়, বরং আপনার চরিত্র ও উদ্দেশ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়।”

‘বিউটি উইথ এ পারপাস’ প্রকল্প এবং ‘মাটি’:
তাঁর সামাজিক কাজের অংশ হিসেবে ‘বিউটি উইথ এ পারপাস’ (Beauty with a Purpose) প্রকল্পের অধীনে তিনি কাজ করছেন ‘মাটি’ নামের একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো আদিবাসী নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বজায় রেখেই উন্নত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি এবং সঠিক সুযোগের সঙ্গে তাঁদের যুক্ত করার কাজ করছেন তিনি।

অন্যান্য শখ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা:
অভিনয় জগতের সঙ্গেও তাঁর যোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে মঞ্চে মাতা সীতার ভূমিকায় অভিনয় করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তিনি আবারও এই ধরনের শক্তিশালী পৌরাণিক চরিত্রে অভিনয় করতে আগ্রহী।

সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ (Gen-Z) পিড়ির উদ্দেশে তাঁর বার্তা— অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা না করে নিজের যাত্রাপথের ওপর ফোকাস করা উচিত। কারণ কৃত্রিম নিখুঁত প্রতিচ্ছবির চেয়ে নিজের প্রকৃত সত্তাকে ভালোবাসাই আসল সাফল্য। বিশ্বমঞ্চে ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত নিকিতা পরওয়াল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *