আসন পুনর্বিন্যাসে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা! সমস্ত সাংসদদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে লোকসভা আসনের পুনর্বিন্যাস (Delimitation) প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার এবং তার সঙ্গে নারী সংরক্ষণ বিলের যোগসূত্র স্থাপন করার পদক্ষেপ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এই বিতর্কিত বিল নিয়ে ডিএমকে (DMK)-এর অবস্থান নরম হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হলেও, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন সমস্ত গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই বিষয়ে তাঁদের দলের অবস্থান আগের মতোই অনড় রয়েছে এবং তারা এর তীব্র বিরোধিতা চালিয়ে যাবে।
কেন তৈরি হয়েছে এই রাজনৈতিক বিতর্ক?
এর আগে গত এপ্রিল মাসে বিরোধী দলগুলির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংবিধানের (১৩১তম সংশোধনী) বিলটি আটকে দেওয়া হয়েছিল। ওই খসড়ায় ২০১১ সালের জনগঙ্কের ওপর ভিত্তি করে লোকসভা আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ পর্যন্ত করার পরিকল্পনা ছিল। এর ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও গুরুত্ব মার খাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রিপোর্ট ও শর্তের গুঞ্জন: এর আগে ‘দ্য হিন্দু’-র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, যদি তিনটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হয়— যেমন পরবর্তী ২৫ বছরের জন্য ১৯৭১ সালের জনগণনাকেই ভিত্তি হিসেবে রাখা, সব রাজ্যের জন্য সমানভাবে ৫০% আসন বৃদ্ধি করা এবং স্পষ্ট আসন বিন্যাস প্রকাশ করা— তবে ডিএমকে নরম হতে পারে। কিন্তু উদয়নিধি স্ট্যালিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, শুরু থেকেই ডিএমকে এই পুনর্বিন্যাসের বিরুদ্ধে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির মূল ভীতি কোথায়?
পরিবার পরিকল্পনা অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়িত করার কারণে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি (বিশেষ করে তামিলনাড়ু, কেরালা ইত্যাদি) মনে করছে যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেরালার সাংসদ শশী থারুরের একটি উদাহরণের প্রসঙ্গ টেনে বলা হচ্ছে, সমান শতাংশে আসন বাড়লেও উত্তরপ্রদেশের মতো জনবহুল রাজ্যগুলির সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির ব্যবধান আরও অনেকগুণ বেড়ে যাবে। যেমন— উত্তরপ্রদেশের আসন ৮০ থেকে বেড়ে ১২০ হলে, কেরালার আসন ২০ থেকে বেড়ে মাত্র ৩০ হবে। এতে কেন্দ্রে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক আওয়াজ এবং আর্থিক অংশীদারিত্ব উভয়ই সংকুচিত হবে।
ঐকমত্য গড়তে ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়:
এই ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মাঝে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় আগামী শনিবার রাজ্যের সমস্ত লোকসভা ও রাজ্যসভা সাংসদদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। কেন্দ্রের এই “পক্ষপাতদুষ্ট পদক্ষেপ”-এর বিরুদ্ধে একটি যৌথ এবং শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
কংগ্রেস সাংসদ মণিকম ঠাকুর দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে সমস্ত সাংসদদের একমঞ্চে ডাকার এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও গঠনমূলক বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই বিলকে সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তাঁদের “একবিংশ শতাব্দীর এতাপ্পান” (Ettappan – মীরজাফরের সমতুল্য ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতক চরিত্র) বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এমতাবস্থায় শনিবারের বৈঠকে ডিএমকে এবং অন্যান্য দলের সাংসদরা কী রণকৌশল স্থির করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।