চোটের কাছে হার! ৩১ বছর বয়সেই সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা অজি পেসার ম্যাথিউ কেলির

ইংল্যান্ডের তরুণ ফাস্ট বোলার জন টার্নারের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্বে আরও এক মর্মান্তিক খবর। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ফের এক প্রতিভাবান পেসার আচমকা সমস্ত ধরনের পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (Western Australia) এবং বিগ ব্যাশ লিগের (BBL) অন্যতম সফল দল পার্থ স্কর্চার্সের (Perth Scorchers) তারকা ফাস্ট বোলার ম্যাথিউ কেলি (Matthew Kelly) মাত্র ৩১ বছর বয়সে ক্রিকেটকে আলবিদা জানালেন। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক গুরুতর চোট-আঘাতের জন্যই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

কেন নিলেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত?
পার্থ স্কর্চার্স এবং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যে সবসময় সামনের সারিতে ছিলেন ম্যাথিউ কেলি। অবসরের ঘোষণা দিতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি ওয়াকা (WACA) গ্রাউন্ডের সঙ্গে তাঁর প্রথমদিনের স্মৃতির রোমন্থন করেন। তিনি জানান, ওয়াকার গেট দিয়ে যখন তিনি প্রথম প্রবেশ করেছিলেন, তখন তিনি জানতেন না এই খেলা তাঁকে কোথায় নিয়ে যাবে। এই মাঠকে তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ আখ্যা দিয়ে সতীর্থ ও স্টাফদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান কেলি। মাঠে এবং ড্রেসিংরুমে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত সারাজীবন তাঁর হৃদয়ের খুব কাছে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ম্যাথিউ কেলির বর্ণোজ্জ্বল কেরিয়ার:
বোলিংয়ে লাল ও সাদা— উভয় বলেই ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন ম্যাথিউ কেলি:

প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেট: ৫৯টি ম্যাচে ২৭.৪৩ গড়ে তিনি শিকার করেছেন ১৮৪টি উইকেট।

লিস্ট-এ ক্রিকেট: সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও তাঁর ৩২.৭৬-এর দুর্দান্ত বোলিং গড় রয়েছে।

টি-টোয়েন্টি ও বিগ ব্যাশ: ৪২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২০.৮৫ গড়ে বল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। যার বড় অংশজুড়েই রয়েছে পার্থ স্কর্চার্সের জার্সিতে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।

ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া দলের সোনালী সময়ে কেলির অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি শেফিল্ড শিল্ড (Sheffield Shield) জিতেছিল ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া, যার অন্যতম স্থপতি ছিলেন তিনি। ২০২২-২৩ মরশুমের ফাইনালে ভিক্টোরিয়ার বিরুদ্ধে একাই ৬টি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন কেলি। শুধু তাই নয়, পার্থ স্কর্চার্সের বিগ ব্যাশ লিগ (BBL) জয়েও তিনি বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০২২-২৩ সালের ফাইনালে ব্রিসবেন হিটের বিরুদ্ধে ৩৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন, এবং তার আগের মরশুমে ১২.৭৮ গড়ে ১৪টি উইকেট নিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে সাহায্য করেছিলেন।

একের পর এক চোট এবং ফিটনেস সমস্যার কারণে কেরিয়ারের মধ্যগগনেই এমন একজন অভিজ্ঞ ও সফল পেসারের আকস্মিক অবসর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট মহলে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *