নেতানিয়াহুর সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ মোদীর! পশ্চিম এশিয়ার কোন বিস্ফোরক পরিস্থিতি নিয়ে হল আলোচনা?

পশ্চিম এশিয়ার ভয়াবহ সংঘাত এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই বিশ্বনেতা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি ভারত-ইজরায়েলের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
নেতানিয়াহু ও মোদীর কথোপকথন
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) থেকে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন। গত পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ না মেলায় বিশ্বজুড়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়াও, ভবিষ্যতেও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখবেন বলে একমত হয়েছেন।
আমেরিকা ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আমেরিকা ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি। আমেরিকার তরফ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ইরানকে হয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে, নতুবা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের মুখে পড়তে হবে।
তবে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না। কেবল ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচলের একটি অস্থায়ী রুট নির্ধারণ সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে যোগাযোগ বজায় রয়েছে। বৃহস্পতিবারই ইরান জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত একটি চুক্তির খসড়া ওমানের সঙ্গে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালীর সংকট
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘হরমুজ প্রণালী’ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশই এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হতো।
কিন্তু বর্তমান সামরিক সংঘাতের জেরে এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশাল ক্ষতির মুখে পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন এই সংকট নিরসনের দিকেই।