লোকসান ঝেড়ে ফেলে বিশাল লক্ষ্য! ২০৩১ সালের মধ্যে ১০,০০০ কোটি টাকা আয়ের পাহাড় গড়ার ঘোষণা সুইগির

খাবার ও মুদিপণ্য ডেলিভারির জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম সুইগি আগামী পাঁচ বছরের জন্য এক অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং দূরদর্শী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সম্প্রতি ক্যাপিটাল মার্কেটস ডে প্রেজেন্টেশনে কোম্পানিটি ঘোষণা করেছে যে, তারা ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে বার্ষিক ১০,০০০ কোটি টাকার অ্যাডজাস্টেড ইবিআইটিডিএ (Adjusted EBITDA) অর্জনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। উল্লেখ্য, অ্যাডজাস্টেড ইবিআইটিডিএ বলতে কোনো কোম্পানির মূল অপারেশনাল আয়কে বোঝায়, যেখান থেকে এককালীন খরচ বা নন-ক্যাশ ব্যয় বাদ দেওয়া হয়।

লাভজনক ফুড ডেলিভারি ও ইন্সটামার্টের চ্যালেঞ্জ
চলতি ২০২৬ অর্থবর্ষে সুইগি ২,৪৮৩ কোটি টাকার সমন্বিত ইবিআইটিডিএ লোকসান দেখিয়েছে। এর মূল কারণ ছিল তাদের কুইক কমার্স ব্যবসা অর্থাৎ ‘ইন্সটামার্ট’-এর পেছনে হওয়া বিনিয়োগ। তবে আশার কথা হলো, সুইগির মূল ফুড ডেলিভারি ব্যবসা দারুণ লাভজনক রয়েছে এবং এই শাখাটি একা একুশ শতকের ২০২৬ অর্থবর্ষেই ১,০০১ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে।

আগামী দিনে এই মুনাফাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে কোম্পানি:

ফুড ডেলিভারি: প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা।

ইন্সটামার্ট: প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা মুনাফা।

আউট-অফ-হোম কনজাম্পশন: প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা মুনাফা।

সুইগির প্রতিষ্ঠাতা ও গ্রুপ সিইও শ্রীহর্ষ মাজেটি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন যে, শক্তিশালী ব্যবসায়িক মডেল এবং বিশাল গ্রাহক ভিত্তির ওপর ভর করেই তারা এই লক্ষ্য পূরণ করবেন। এর আগে মে মাসে কোম্পানিটি তাদের সমস্ত ব্যবসা একত্রিত করে ১ লক্ষ কোটি টাকার নেট অর্ডার ভ্যালু (NOV) অর্জনের ইচ্ছের কথাও জানিয়েছিল।

ইন্সটামার্টকে লাভজনক করার মাস্টারপ্ল্যান
কোম্পানি এখন তাদের কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘ইন্সটামার্ট’-কে লাভজনক করার দিকে সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে সুইগি তাদের নিট লোকসান ৩৪% কমিয়ে ৭৯১ কোটি টাকায় নামিয়ে এনেছে।

জুন ত্রৈমাসিকে ইন্সটামার্টের অর্ডারের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১৪.৫ মিলিয়ন।

সুইগির ধারণা, প্রতি ত্রৈমাসিকে অর্ডারের পরিমাণ ২৫০-৩০ কোটি ছুঁলেই ইন্সটামার্ট পুরোপুরি লাভজনক হয়ে উঠবে।

২০৩১ সালের মধ্যে ইন্সটামার্টের জন্য ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার গ্রস অর্ডার ভ্যালু (GOV) অর্জনের মেগা লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৬ সালের তুলনায় প্রায় ৪-৫ গুণ বেশি। সম্প্রতি এই বিভাগকে নেতৃত্ব দিতে মিন্ট্রার প্রাক্তন সিইও নন্দিতা সিনহাকে সিইও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

বড় বিনিয়োগ ও নতুন মডেলের প্রস্তুতি
বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের মুনাফা সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করতে সুইগি মার্জিন উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত ডিসেম্বরে একটি কোয়ালিফাইড ইনস্টিটিউশনাল প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ১০,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে কোম্পানিটি এবং ৩০শে জুন পর্যন্ত তাদের হাতে ১৪,৩৬৭ কোটি টাকার শক্তিশালী নগদ রিজার্ভ রয়েছে।

এছাড়াও, ব্যবসা আরও পোক্ত করতে সুইগি এখন প্রথাগত মডেল বদলে ‘ইনভেন্টরি মডেল’ (Inventory Model) চালুর পরিকল্পনা করছে। আগামী ১৮ আগস্টের বার্ষিক সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন চাওয়া হবে। এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হতে আগামী দুই থেকে চার কোয়ার্টার সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *