গ্যাসের সিলিন্ডারে ফের বড় ধাক্কা! মহার্ঘ হতে চলেছে রান্নার গ্যাস, জেনে নিন নতুন দাম

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামছাড়া দামবৃদ্ধির জেরে এমনিতেই সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছে। এর মধ্যেই দেশের রান্নার গ্যাস ব্যবহারকারীদের জন্য আসতে চলেছে আরও এক বড় ধাক্কা। খুব শীঘ্রই ফের বাড়তে চলেছে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের দাম। তবে এই দাম বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো যুদ্ধ বা তেলের বাজার নয়, বরং সরকারের নতুন একটি কর বা লেভি (Levy) চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন বাড়ছে গ্যাসের দাম?
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের জ্বালানি সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে চাইছে কেন্দ্র। অতীতে ইরান সংকটের সময় ভারত গ্যাস ও তেল সরবরাহে যে সমস্যার মুখে পড়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে জরুরি অবস্থার জন্য জ্বালানি মজুত (Strategic Reserve) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এলপিজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG/PNG) এই স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ পরিকাঠামো তৈরি করতে প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা) খরচ হতে পারে। আর এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকেই বিশেষ কর বা লেভির মাধ্যমে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সিলিন্ডার প্রতি কত দাম বাড়তে পারে?
সরকারের এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির ওপর ১.২৯ টাকা করে চার্জ বসানো হতে পারে। এর ফলে সাধারণ ১৪.২ কেজির গার্হস্থ্য বা গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১৮ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য প্রতি বছর ৪৬০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা। একইভাবে, পাইপলাইনের পিএনজি (PNG) গ্যাসের ক্ষেত্রেও প্রতি স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটারে ১.৪৩ টাকা লেভি বসতে পারে। সবমিলিয়ে এই নতুন করের জেরে সাধারণ মানুষের মাসিক গ্যাস বিল প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।
১৬ আগস্টের মধ্যে ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক
দাম বৃদ্ধির খবরের পাশাপাশি গ্যাস গ্রাহকদের জন্য আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া নিয়ম চালু করেছে কেন্দ্র। নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে বায়োমেট্রিক ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করতেই হবে। এই নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া শেষ না করলে গ্রাহকদের ভর্তুকিযুক্ত গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। এমনকি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার গার্হস্থ্য বা ভর্তুকির দামে পাওয়া যাবে না। ইন্ডিয়ান অয়েল, এইচপি এবং ভারত গ্যাস— সব রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার গ্রাহকদের জন্যই এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য হল ভর্তুকির অপব্যবহার সম্পূর্ণভাবে রোধ করা।
কীভাবে সম্পন্ন করবেন ই-কেওয়াইসি?
গ্রাহকরা খুব সহজেই নিচের তিনটি উপায়ে এই বায়োমেট্রিক ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন:
১. অনলাইন পদ্ধতি: গ্যাস কোম্পানির অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ এবং নির্দিষ্ট ফেস আরডি অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই নিজে করা সম্ভব।
২. গ্যাস এজেন্সি: নিকটবর্তী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে সরাসরি গিয়ে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন করাতে পারেন।
৩. ডেলিভারি বয়: বাড়িতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করতে আসা ডেলিভারি এজেন্টের হাতের মেশিনের (মাইল ডিভাইস) সাহায্যেও এই কাজ সেরে নেওয়া যায়।