“এমন সন্তান যেন কারও না হয়!” ভিডিও কলে বাবার শেষকৃত্য দেখার মর্মান্তিক দৃশ্য ভাইরাল হতেই তোলপাড় নেটপাড়া

সন্তানদের এমন এক অমানসিক, নিষ্ঠুর ও উদাসীন রূপ দেখে ক্ষোভে ফুঁসছে নেটপাড়া। বাবা জীবনের শেষ সময়ে এসেও তিন মেয়ের একজনেরও দেখা পেলেন না। শুধু তাই নয়, মৃত্যুর পর শেষবারের মতো বাবাকে দেখতে আসার ন্যূনতম প্রয়োজনও বোধ করলেন না তাঁরা! সুদূর বিদেশ বা অন্য রাজ্য থেকে আসার বদলে ভিডিও কল (Video Call)-এই বাবার শেষকৃত্য ও দাহকাজ দেখলেন তিন কন্যা! বর্তমানে এই মর্মান্তিক ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল বৃদ্ধ শিবচরণের জীবনে?
মুম্বইয়ের বাসিন্দা ছিলেন ৭৪ বছর বয়সি শিবচরণ রাম রতন গুপ্তা। মুম্বইয়ে তাঁর নিজস্ব জামাকাপড়ের ব্যবসা ছিল। কিন্তু স্ত্রী বিয়োগের পর একাকী জীবন কাটানোর পরিবর্তে তিনি শেষ বয়সে ঠাঁই নিয়েছিলেন হরিয়ানার একটি বৃদ্ধাশ্রমে। তবে তিনি হয়তো কোনোদিন স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি যে জীবনের অন্তিম লগ্নে এসে তাঁর নিজের সন্তানেরাই এভাবে তাঁর সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

হরিয়ানার যে বৃদ্ধাশ্রমে তিনি থাকতেন, সেখানকার কতৃপক্ষ জানিয়েছেন যে শিবচরণবাবুর মোট তিনটি মেয়ে রয়েছে, যাঁরা বর্তমানে নেপাল, উত্তর প্রদেশ এবং মুম্বইয়ে বসবাস করেন। বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি হতেই তাঁর তিন মেয়েকে খবর পাঠানো হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, একটাবার বাবাকে দেখতে আসার সময় বা ইচ্ছা তাঁদের কারোরই হয়নি। টানা ২০ দিনের মধ্যে একদিনও কেউ দেখতে আসেননি। এমনকি বৃদ্ধ বাবা মারা যাওয়ার পরও তাঁরা শেষকৃত্যে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।

টাকা পাঠিয়ে ও ভিডিও কলে দায়িত্ব শেষ!
জানা গিয়েছে, তিন মেয়ে সরাসরি নিজে উপস্থিত না হয়ে অনলাইনে মাত্র ৫১০০ টাকা পাঠিয়ে সমস্ত খরচ দিয়ে তাদের ‘সন্তান হওয়ার কর্তব্য’ সেরে ফেলেছেন। শুধু যে শেষকৃত্যের খরচ বহন করেছেন তা-ই নয়, তাঁরা সটান ভিডিও কলে চোখ রেখেই বাবার দাহকাজ ও মুখাগ্নি দেখেছেন! শেষ পর্যন্ত ওই বৃদ্ধাশ্রমের কর্মী এবং স্থানীয় মানুষজনই উদ্যোগ নিয়ে শিবচরণের সমস্ত শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।

সবচেয়ে বড় কথা, মৃত্যুর আগে শিবচরণ বাবু তাঁর চোখ দুটো দান করে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সেই মহৎ ইচ্ছা অনুযায়ী মৃত্যুর পর তাঁর চোখ সফলভাবে দান করা হয় এবং তারপরেই অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন করা হয়।

নেটপাড়ায় সমালোচনার ঝড়
এই ঘটনার মর্মান্তিক ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছিছিক্কার পড়ে গিয়েছে। নেটিজেনরা তিন মেয়ের এই অমানবিক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “এঁরা আবার নিজেদের সন্তান বলে দাবি করেন? ধিক্কার!” * আর এক জন মন্তব্য করেছেন, “আশা করি ওই তিন মেয়েরও নিজের সন্তান আছে। এই ভিডিও দেখে তাদেরও বার্তা পেয়ে যাওয়া উচিত যে ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে কী ব্যবহার হতে চলেছে।” * তৃতীয় এক ইউজারের মন্তব্য, “কী অভিশপ্ত ও দুর্ভাগ্যজনক এক পরিণতি! এমন নিষ্ঠুর সন্তান যেন বিধাতা শত্রুুকেও না দেন।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *