মসজিদের লাউডস্পিকার খোলার অভিযোগ, DGP-কে চিঠি লিখলেন নওশাদ সিদ্দিকি

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে মসজিদ থেকে জোর করে লাউডস্পিকার বা মাইক খুলে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন ভাঙরের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। এই বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আজ বুধবার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজিপি (DGP)-কে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।
১. নওশাদ সিদ্দিকির প্রধান অভিযোগগুলি কী?
চিঠিতে নওশাদ অভিযোগ করেছেন যে, কোনো ধরনের লিখিত নোটিশ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার সরিয়ে দিচ্ছে। এমনকী, পুলিশের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে মসজিদ কমিটির সদস্যদের ফজরের আজানের জন্য লাউডস্পিকার ব্যবহার না করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
আইএসএফ বিধায়কের দাবি, এর আগে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটিগুলি নির্দিষ্ট আইন মেনে এবং আদালতের নির্দেশিকা মেনেই লাউডস্পিকারের শব্দের মাত্রা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রেখেছিল।
২. মৌলিক অধিকার খর্ব করার আশঙ্কা
নওশাদ সিদ্দিকি চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন যে, কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশ বা ভয় দেখিয়ে আইন প্রয়োগ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের পদক্ষেপের আগে লিখিত নোটিশ জারি করা, শব্দের মাত্রা পরিমাপ করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিজেদের কথা বলার বা শুনানির সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। তা না হলে এটি সংবিধানের ১৪, ১৯, ২১ এবং ২৫ থেকে ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে সরাসরি খর্ব করবে।
৩. ডিজিপির কাছে নওশাদের ৩ দফা দাবি
রাজ্যে যাতে কোনোভাবেই ধর্মীয় সম্প্রীতি বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য ডিজিপির কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন বিধায়ক:
-
মসজিদের লাউডস্পিকার অপসারণের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশ রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার করা।
-
শব্দদূষণ সংক্রান্ত আইন সঠিক ও স্বচ্ছভাবে কার্যকর করার জন্য একটি স্পষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) বা নির্দেশিকা জারি করা।
-
ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা।
৪. পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও আইনি হুঙ্কার
এ বিষয়ে নওশাদ আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মসজিদ থেকে মাইক খোলার কথা কোন অধিকারে বলছে পুলিশ? ইমামদের থানায় ডেকে এনে ধমকানো হচ্ছে। ১৯৯৬ সালের ১ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মাইক সম্পূর্ণ নামিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়নি, বরং ডেসিবেল বেঁধে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টও একই রায় দিয়েছিল। আমরা এই বিষয়ে প্রয়োজনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করব।”
যদিও এই অভিযোগ এবং ডিজিপিকে পাঠানো চিঠি সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।